ঝাড়-ফুঁকের নামে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার
নোয়াখালীর সূবর্ণচরের একটি মাদরাসায় ঝাড়-ফুঁকের নামে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় মুফতি আবুল খায়ের (৩৫) নামে এক প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার (৮ মে) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে জেলা শহরের ইসলামিয়া রোড থেকে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবির গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার মুফতি আবুল খায়ের সূবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদরাসা প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী (১৩) ওই মাদরাসার হেফজ বিভাগের আবাসিকের ছাত্রী।
মো. মুহিত কবির বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাইজদী ইসলামিয়া রোডের মায়া হোটেলের সামনে থেকে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে সুধারাম মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করায় গত ১৮ এপ্রিল চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যবাগ্যা গ্রামে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন ১৯ এপ্রিল ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ দেখে নিজাম উদ্দিন জাহাঙ্গীর (৫২) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু মূল অভিযুক্ত আবুল খায়ের পলাতক ছিলেন।
মামলার বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, মাদরাসা ছাত্রীর মা প্রধান শিক্ষক আবুল খায়েকে মেয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে ঝাড়-ফুঁক দিতে বলেন। এসময় ছাত্রীর মাকে সরিষার তেল আনতে পাঠিয়ে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান প্রধান শিক্ষক। পরে মেয়ের কান্নাকাটি দেখে জিজ্ঞেস করলে ছাত্রী তার মাকে বিষয়টি খুলে বলে।
সূবর্ণচরের চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, মামলার খবরে উত্তেজিত জনতা ওই ছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভিডিও দেখে এক আসামি এবং শুক্রবার র্যাবের সহযোগিতায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হলো।
ইকবাল হোসেন মজনু/এনএইচআর/জেআইএম