কুমিল্লায় রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
কুমিল্লার মেঘনায় রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দেলোয়ার হোসেন (৩৮) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ারের বড় ভাই আবদুল বাতেনের জমির মাঝ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির মেম্বার। এসময় জমির মালিক আবদুল বাতেন বলেন রাস্তা নিতে বাধা নেই, তবে জমির মাঝ দিয়ে না নিয়ে এক পাশ দিয়ে নিতে হবে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন নাছির। বিষয়টি স্থানীয়রা মীমাংসা করে দিলেও এতে সন্তুষ্ট নন নাছির।
শুক্রবার রাতে দেলোয়ার তার পুরাতন বাড়ি থেকে নতুন বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এসময় নাছির মেম্বার ও তার সহযোগীরা দেলোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এসময় দেলোয়ারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসক দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, রাস্তা নির্মাণ নিয়ে আবদুল বাতেন ও নাছির মেম্বারে মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হলে নাছির ক্ষিপ্ত হয়। বিষয়টি জানার পর আমি মীমাংসা করে দেই। তারপরও নাছির থামেনি। শেষ পর্যন্ত আবদুল বাতেনের ছোট ভাই দেলোয়ারকে কুপিয়ে হত্যা করলো।
মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, বাতেন নামে একজন লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) ঘটনাস্থলে পাঠালে তিনি বলেন, অভিযোগকারীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা হচ্ছে না।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দেলোয়ারের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজেই হবে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাছির মেম্বারকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে এ ঘটনায় কেউ এখনো থানায় অভিযোগ করেননি।
জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/এএসএম