শিশু ফাহিমকে বাঁচাতে প্রয়োজন ৬ লাখ টাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ০৯ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত পাঁচ বছর বয়সি ফাহিম আহমেদের চিকিৎসা থেমে গেছে অর্থের অভাবে। তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজন আরও প্রায় ছয় লাখ টাকা। কিন্তু এরই মধ্যে সর্বস্ব বিক্রি করে চিকিৎসা চালানো পরিবারটির পক্ষে এ অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব।

ফাহিম আহমেদ রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের তালুক আষাঢ়ু গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও ফেন্সি আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। প্রায় এক বছর আগে ঢাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছেলেকে বাঁচাতে মিজানুর রহমান তার মোবাইল ফোনের দোকান বিক্রি করে দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ, বসতভিটা বন্ধক এবং স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এতে ফাহিমের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিয়মিত কেমোথেরাপিসহ আরও দেড় বছর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

তবে বর্তমানে পরিবারটি চরম অর্থসংকটে পড়েছে। কেমোথেরাপি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ফলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ফাহিমের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলেটা এখন আগের চেয়ে ভালো আছে। ডাক্তার বলেছেন, নিয়মিত চিকিৎসা চালাতে পারলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু আমাদের আর কোনো সম্বল নেই। ছেলের চিকিৎসার জন্য সব বিক্রি করে এখন আমি নিঃস্ব। এখন মানুষের সহায়তা ছাড়া ছেলেটার চিকিৎসা চালানো সম্ভব নয়।’

ফাহিমের দাদা আব্বাছ আলী বলেন, ‘নাতির চিকিৎসার জন্য বাড়িঘর, দোকান সব বিক্রি করেছি। এখন নিজেরাও দুবেলা খেয়ে না খেয়ে কষ্টে আছি। তবু নাতিটাকে বাঁচাতে চাই।’

মা ফেন্সি আক্তার বলেন, ‘আমার সন্তান অন্য বাচ্চাদের মতো খেলতে চায়, স্কুলে যেতে চায়। অন্য বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া দেখে সে আমায় জড়িয়ে ধরে বলে, মা আমি কবে স্কুলে যাব? এই কথা শুনলে বুক ভেঙে যায়। আমরা সব বিক্রি করে শেষ করেছি। এখন কীভাবে চিকিৎসা করাব, বুঝতে পারছি না।’

একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে সহায় সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে পরিবারটি। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

রাজারহাট উপ‌জেলা সমাজ‌সেবা কর্মকর্তা এস এম হাবিবুর রহমান ব‌লেন, শিশু ফা‌হিমকে সমাজ‌সেবা অধিদপ্তর থে‌কে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া তা‌কে প্রতিমা‌সে ওষু‌ধের জন‌্য সহ‌যো‌গিতা করা হ‌চ্ছে। যা প্রয়োজ‌নের তুলনায় খুবই সামান‌্য। তাই ফা‌হি‌মের চি‌কিৎসার জন‌্য দে‌শের বিত্তবান‌দের এগিয়ে আসার আহ্বান ক‌রেন এ কর্মকর্তা।

রোকনুজ্জামান মানু/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।