বাসচাপায় মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে দাফন হলো বাবা-ছেলের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৮:২৯ এএম, ১৩ মে ২০২৬

ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসচাপায় নিহত বাবা ও ছেলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে।

এর আগে এদিন সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সদর উপজেলার হাফেজিয়া এলাকায় বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নুর আলম (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে নুর হাসনাত নীরব (২০) নিহত হন। নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ছেলে ও ভাগনেকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে সদর উপজেলার ভাঙার তাকিয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন নুর আলম। পথে দাউদকান্দি এক্সপ্রেস পরিবহনের দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নুর আলমের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে নীরব ও ভাগনে আফজাল মিঠুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বারইয়ারহাট এলাকায় পৌঁছালে নিরবের মৃত্যু হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিহতদের মরদেহ নিজ এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় বাবা-ছেলেকে। এর আগে বাদ আসর ফেনী শহরের মিজান ময়দানে তাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সহকর্মী, আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় স্বজন ও সহকর্মীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে জানাজা শেষে নুর আলম ও তার ছেলে নিরবের মরদেহ পৃথক দুটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। সহকর্মীর প্রতি ভালোবাসা ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অন্তত ২০টি অ্যাম্বুলেন্সের বহর তাদের মরদেহ নিয়ে সোনাগাজীর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ আবদুল মোতালেব বলেন, বাবা-ছেলের একসঙ্গে মৃত্যু, একসঙ্গে জানাজা ও দাফন এমন ঘটনা জীবনে দেখিনি। এটি খুবই কষ্টের।

নুর আলমের মামা শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বলেন, এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। স্ত্রী ও তাদের মেয়েটি কীভাবে বাকি জীবন কাটাবে, সেটিই এখন বড় চিন্তার বিষয়। এমন আকস্মিক মৃত্যু কখনো মেনে নেওয়ার মতো না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রাশেদ বলেন, মানুষের বিপদ-আপদে নুর আলম সবসময় পাশে দাঁড়াতেন। কাউকে কখনো খালি হাতে ফেরাননি। তার শেষ বিদায়ে মানুষের ঢলই প্রমাণ করে তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছে ফেনী সদর উপজেলা প্রশাসন।

মহিপাল হাইওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মরদেহ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়ে গেছে।

ফেনী মডেল থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম। তিনি বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।