গুলি-রাবার বুলেট নিক্ষেপ

খাগড়াছড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলা, ইউএনওসহ আহত ১৫

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০৯:৫০ এএম, ১৩ মে ২০২৬

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালিয়েছে গ্রামবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা ১০ রাউন্ড গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম ও থানার ওসি মো. নাজির আলমসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন (৩৮), নুর মোহাম্মদ-১ (২৫), নুর মোহাম্মদ-২ (৩৩) ও খোরশেদ আলম (৩৭)।

এছাড়া ইউএনও অফিসের স্টাফ আব্দুল ওহাব জুয়েল (৩০), ইউএনওর গাড়িচালক কামাল উদ্দিন (৪০), উপজেলা পরিষদের স্টাফ হারুন (৪৫), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস স্টাফ জয়নাল আবেদীন (৪২), পৌরসভার স্টাফ সিহাব উদ্দিন (২৬), গ্রামবাসী নুর হোসেন (১৯), সুমন ত্রিপুরা (২২), আজাদ (২৫) ও আবুল হাসান (৩০) আহত হন। আহত চার গ্রামবাসী রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম জানান, গোপন সংবাদে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এসময় কতিপয় লোক অভিযান পারিচালনায় অংশগহণকারীদের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তারা এক-দেড়শ লোক জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এতে তিনি নিজেসহ ১১ জন আহত হন।

খাগড়াছড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলা, ইউএনওসহ আহত ১৫

ইউএনও বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্পটে পাম্প মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম বলেন, শতাধিক নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।

অপরদিকে আহত গ্রামবাসী দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচে কাজের জন্য খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ভেঙে ফেলে। এতে গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা গ্রামবাসীর ওপর গুলিবর্ষণ করে।

কৃষক ফারুক অভিযোগ করেন, অভিযান পরিচালনাকারীরা তার একটি সেচের পাম্প মেশিন ভেঙে ফেলেছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামে তিন কৃষকের সেচ পাম্প মেশিনও ভাঙা হয়।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম কৃষকদের সেচ পাম্প মেশিন ধ্বংস করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

প্রবীর সুমন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।