চুয়াডাঙ্গায় আম সংগ্রহ শুরু, ফরমালিন মেশালে কঠোর ব্যবস্থা
চুয়াডাঙ্গায় শুরু হলো আম সংগ্রহ মৌসুম। বুধবার (১৩ মে) শহরের মহলদার আম্রকানন বাগানে চলতি আম মৌসুম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
আম সংগ্রহের আগে আমের গুণগত মান ও রাসায়নিক মুক্ত আম যাতে বাজারে যায় সেজন্য মহলদার আম বাগান ঘুরে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এরপর গাছ থেকে আম পেরে আমের মৌসুম উদ্বোধন করা হয়। এসময় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জেলা আম ব্যবসায়ী ও আম আম বাগান মালিক সমিতি।
আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ বুধবার থেকে আঁটি, গুটি ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ করার মধ্যদিয়ে আম সংগ্রহ মৌসুম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২০ মে হিমসাগর, ২৫ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি, ২০ জুন হাড়িভাঙা, ২২ জুন ব্যানানা, ৩০ জুন আশ্বিনা ও বারি-৪, ৫ জুলাই কাটিমন এবং ৩১ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ শুরু হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ফলের রাজা আম। অপরিপক্ক আম যাতে কোনো বাগান মালিক সংগ্রহ না করে সেই ব্যাপারে কৃষি বিভাগ তদারকি করবে। পরিপক্ব আম যাতে বাজারে আসে এবং নিরাপদ আম ও রাসায়নিক মুক্ত আম বাজারে বিক্রি হয়, সেই ব্যাপারে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এই মৌসুমেও জেলার উৎপাদিত আম সারাদেশের চাহিদা মিটাতে সক্ষম হবে।
উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, নির্ধারিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। ক্যালেন্ডারের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত বাজার তদারকি করবে বলেও জানান তিনি।

এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (উদ্যান) দেবাশীষ কুমার দাস, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম, প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, আমচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, সহ-সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম, রিন্টু মহলদারসহ স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৩০ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হুসাইন মালিক/এমএন/এমএস