যশোরে হামলা-চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপির সংবাদ সম্মেলন
যশোরে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের জেলা শাখার ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খোদ সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি আবু গোলাম কুদ্দুস, দপ্তর সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১২ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে ব্যক্তিগত কাজ শেষে ফেরার পথে জহিরুল ইসলামকে একদল ব্যক্তি পথরোধ করে তার মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে জোরপূর্বক একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জহিরুল ইসলামকে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এসময় তার কাছে থাকা নগদ টাকা, ব্যাংক চেক, এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর নিয়ে অর্থ উত্তোলন ও লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আল আমিন নামের আরেক কর্মীকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে তাকেও মারধর করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, আহত জহিরুল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে রেকর্ড করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি ডা. ফরিদ অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে কিছু ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অপহরণকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার ওসি শাহ জালাল আলম বলেন, এমপি সাহেব সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছি। যেসব বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচআরএম
মিলন রহমান/এফএ/এমএস