রোগীর মৃত্যু

মব করে চিকিৎসকের ওপর হামলা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হলো ঢাকায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:৩৮ পিএম, ১৬ মে ২০২৬

শরীয়তপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মব করে ওই চিকিৎসককে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে অন্তত কয়েক দফায় চালানো হয় এই হামলা। গুরুতর আহত অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ওই চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

হামলায় অংশ নেয় রোগীর স্বজন ও বহিরাগতসহ কমপক্ষে ৫০ জন। যার ভয়ংকর দৃশ্যগুলো ধরা পড়েছে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব লাল মিয়া কাজী। পরে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। তবে ওই রোগী ঢাকায় নেওয়ার আগেই মারা যান।

এ ঘটনায় চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা চালান নিহতের স্বজন ও বহিরাগতরা। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

মব করে চিকিৎসকের ওপর হামলা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হলো ঢাকায়

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামকে রুম থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করছে কিছু লোক। এরপর শুরু হয় কিল-ঘুষি। নিজেকে রক্ষায় একাধিকবার চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন তিনি। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে চালানো হয় কয়েক দফা হামলা। এতে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন ওই চিকিৎসক। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকের স্বজনরা।

চিকিৎসকের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিন মাস আগে চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে। ও সবসময় মানুষের সেবা করার কথা জানিয়েছে। মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে কেউ ভুল বুঝে যদি এমন হামলা চালায় এটি ন্যাক্কারজনক। তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক যদি হাসপাতালে নিরাপদ না থাকে তাহলে তারা কীভাবে চিকিৎসাসেবা দিবে। আমরা এই ঘটনায় দোষীদের বিচার চাই।

এদিকে চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর। শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে তাকে ঢাকায় পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার বলেন, আমাকে ওই চিকিৎসক জানায় একজন রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমি বিষয়টি দ্রুত পুলিশ ও ইউএনও ম্যাডামকে জানাই। এসে দেখি আমাদের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত করে আহত করা হয়েছে। শতাধিক লোক এই হামলায় জড়িত ছিল। এরই মধ্যে আমাদের আহত চিকিৎসককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দাজনক বলছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রত্যেক দোষীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান।

মব করে চিকিৎসকের ওপর হামলা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হলো ঢাকায়

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা রোগীদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তাকেই হত্যাকারী অপবাদ দিয়ে তার ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করছি। গতকাল রাতে ঘটনাস্থল থেকে ঘটনার উসকানিদাতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার পর হাসপাতালে ছুটে এসে আহত চিকিৎসকের খোঁজখবর নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এমপি সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, এখানে যে ঘটনা ঘটেছে তার সুষ্ঠু বিচার আমরা চাই। দলের পরিচয় দিয়ে দলের বদনাম হোক এটা চাই না। কেউ যাতে এটা না করে। দলের কেউ হলেও আমরা এটা দেখবো।

বিধান মজুমদার অনি/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।