শেরপুরে ২ অস্ত্র ব্যবসায়ী কারাগারে
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের সীমান্তঘেঁষা বড় গজনী এলাকা থেকে অস্ত্র, গ্রেনেড ও গুলিসহ আটক সৃষ্ট মারাক (৪০) ও অনুকূল সাংমা ওরফে চাম্বু কবিরাজ (৫৫) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার বিকেলে শেরপুরের অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম মো. মোমিনুল ইসলাম তাদেরক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে তাদেরকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয় বলে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিঠু মিয়া।
রোববার সকালে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও একটি গোয়েন্দা সংস্থা অভিযান চালিয়ে ঝিনাইগাতীর বড় গজনী গ্রামের সৃষ্ট মারাকের বাড়ীর মাটির নিচে লুকানো অবস্থায় মাঠি খুড়ে ১টি তাজা গ্রেনেড, ১টি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি ও ২টি ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে। এ সময় সৃষ্ট মারাক ও একই গ্রামের সাংমাকে পুলিশ আটক করে। তাদের দু’জনকেই অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজিব খান বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, আটক সৃষ্ট মারাক ও সাংমা দু’জনই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বেশ কিছুদিন যাবত তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল।
তাদেরকে অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. সজীব খান, মিঠু মিয়া ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা সকাল পৌনে ৭টা থেকে দেড়ঘন্টাব্যাপী ওই গ্রামের উলফা কমান্ডার রঞ্জন চৌধুরীর (বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত) বাড়ী সংলগ্ন সৃষ্ট মারাকের বাড়ীর আঙ্গিনায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কলাগাছের নিচে গর্ত খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১টি তাজা গ্রেনেড, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, ৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ২টি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ী সৃষ্ট মারাক ও তার সহযোগী অনুকুল সাংমা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে।
হাকিম বাবুল/এএম/এবিএস