কিবরিয়া হত্যা : পলাতক দুই আসামির ক্রোকাদেশ তামিল হয়নি
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক মামলায় এবারও মালামাল বাজেয়াপ্তের আদেশ তামিল হয়নি পলাতক দুই আসামির।
বুধবার মামলার নির্ধারিত তারিখে কোনো আসামি আদালতে উপস্থিতও ছিলেন না। একই দিন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হত্যা মামলাটির তারিখ হওয়ায় জামিনে থাকা আটজনের পক্ষে আইনজীবী আদালতে সময় প্রার্থণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরক মামলায় ৩২ জন আসামির মাঝে মোট ৯ জন পলাতক রয়েছেন। কারাগারে আছেন ১৫ জন। আর জামিনে রয়েছেন আটজন। খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ পলাতক ৯ জনের মাঝে সাতজনের মালামাল ক্রোকাদেশের প্রতিবেদন ইতিমধ্যে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। পলাতক মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আব্দুল হাইয়ের ক্রোকাদেশ তামিলের প্রতিবেদন এখনো আসেনি।
বুধবার হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহর আদালতে মামলাটির নির্ধারিত তারিখ ছিল। ক্রোকাদেশ তামিল না হওয়ায় এবং একই দিন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হত্যা মামলার তারিখ থাকায় বিচারক ২৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গ্রেনেডে নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ পাঁচজন। এ ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। দুইটি মামলাই একাধিকবার তদন্ত হয়।
সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেটের সিনিয়র এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল দীর্ঘদিন তদন্ত করে উভয় মামলায় খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছসহ মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
হত্যা মামলাটি বর্তমানে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। আর বিস্ফোরক মামলাটি হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এআরএ/এমএস