আদিবাসী পল্লীর সড়কটি ঘিরে নানা স্বপ্ন
শেরপুরের পাহাড়ি জনপদে গারো, কোচ, হাজংসহ বিভিন্ন আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলো বরাবরই অবহেলিত থেকেছে। অনুন্নত যোগোযোগ ব্যবস্থার কারণে তাদের জীবনমানেরও কাঙ্খিত উন্নয়ন ঘটেনি।
কিন্তু ঝিনাইগাতী উপজেলার আদিবাসী অধ্যুষিত কাংশা ও ধানশাইল ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে একটি পাকা সড়ক নির্মাণকে ঘিরে আদিবাসী পল্লীগুলোতে এক নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীরা এই সড়কটিকে তাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগও ওই এলাকার আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ‘ট্রাইবাল পিপলস ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’ নামে এক নশংন উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করেছে।
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ভাস্কর কান্তি চৌধুরী জানান, সরকারের নিজস্ব তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দ্বিতীয় গ্রামীণ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়া বাজার থেকে দুধনই নতুন বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্ট, পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশনের জন্য জলব্রিজসহ সাড়ে ১৪ ফুট চওড়া সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষের পথে।
তিনি জানান, সড়কটি নির্মাণের ফলে গ্রামীণ যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয়ের উৎস বেড়েছে। পণ্যের বাজারজাতকরণ লাভজনক হয়েছে। এতে করে এলাকায় দারিদ্র লাঘব হচ্ছে।
স্থানীয় অধিবাসী কারমেলা ম্রং, সুনিতা মারাক ও হাকিম মিয়া জানান, আগে আমাদের যাতায়াতে খুব সমস্যা ছিলো। রাস্তাটি নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ সহজ হয়েছে। আগে আমাদের হেঁটে বাকাড়া বাজারে আসতে হতো, ঝিনাইগাতী যেতে হতো। এখন রিকশা চলছে, এলাকায় গাড়ি-ঘোড়া আসছে, চলাচল করছে। এক ঘণ্টার পথ এখন ৫ মিনিটেই যাওয়া যাচ্ছে।
পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামের সুভাষ চন্দ্র কোচ ও জসিম উদ্দিন বলেন, এই রাস্তা হওয়ার ফলে এখানকার জমির দাম বেড়েছে। এলাকায় বিদ্যুত এসেছে। উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করা যাচ্ছে।
এলজিইডি’র কর্মকর্তারা জানান, ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়ার ওই সড়ককে ঘিরে স্থানীয় আদিবাসীদের জীবনমানের আরো কিভাবে উন্নয়ন ঘটানো যায় সে বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত জানতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন কর্মী ও উপকারভোগীদের নিয়ে পরিকল্পনা পরামর্শ সভা করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
হাকিম বাবুল/এসএস/এমএস