রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে ধানের চারা রোপন


প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ৩০ জুলাই ২০১৬

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রজয়পুর গ্রামে একমাত্র মেটোপথটি পাকাকরণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। বর্ষার কয়েক মাস রাস্তাটি কর্দমাক্ত থাকে। এ রাস্তা চলাচল করতে গেলে পা হাঁটু পর্যন্ত কাদার ভেতরে দেবে যায়। শিক্ষার্থীদের হাঁটু কাদা পেরিয়ে নিত্যই স্কুলে যেতে হয়।
 
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী রাস্তাটি পিচঢালা করার দাবি জানালেও স্থানীয় প্রশাসন এর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। তাই পাকাকরণের দাবিতে রাস্তায় ধানের চারা রোপন করেন স্থানীয়রা।
 
শুক্রবার দুপুরে গ্রামবাসী রাস্তার উপর বেশ কিছু অংশে ধানের চারা রোপন করে এর প্রতিবাদ জানায়।
 
শুক্রবার বিকেলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রজয়পুর গ্রামে চার শ’ লোকের বসবাস। গ্রামে প্রায় ২০ বছর আগে এক কিলোমিটার দূরত্বের একটি কাঁচামাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তাটি বাঁকাচারা হতে পাতনা রাস্তায় যুক্ত হয়। খরা মৌসুমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে কয়েক মাস হাঁটু পর্যন্ত কাদা হয়ে যাওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে যায়।

এ কারণে গ্রামের মানুষদের প্রতিদিন মহাদেবপুর ও নওগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এদিকে বর্ষার এই কয়েক মাস ধান ও সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন কৃষকরা। তাই এ ভোগান্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতে এক কিলোমিটার রাস্তা পিচঢালা করার দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
 
স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় মন্ডল জানান, তাদের গ্রামের পাশ্ববর্তী দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পাতনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাটচকগৌরী উচ্চ বিদ্যালয়। গ্রামে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে এ রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করছে। এ গ্রামের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীরা কাদাপানির হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে এখন ধানের চারা রোপন করেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কাদা মাটির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থী পড়ে যায়। সেখান থেকে আবার বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। এ কাদামাটির দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।  

স্থানীয় বাসিন্দা অক্ষয় কুমার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এ গ্রামে শুধু আমরা হিন্দু ধর্মের লোকজন বসবাস করি। হয়তো এ জন্যেই আমাদের চলাফেরা করার একমাত্র রাস্তাটি সংস্কারের জন্য কেউ উদ্যোগ নিচ্ছেন না। আমরা বছরের পর বছর ধরে হাঁটুসমান কাদার ওপর দিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যেই চলাফেরা করলেও কাদা নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি বা কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়নি।

স্থানীয় ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র জানান, এ ব্যাপারে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন তলফদার জানান, রাস্তাটি পিচঢালা করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।