শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি : সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
শেরপুরের বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে শেরপুর-জামালপুর সড়কের পোড়ার দোকান কজওয়ে। শনিবার বিকেলে থেকে জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার গোলাম মোস্তফা জানান, শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র সেতু পয়েন্টে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদ সীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে শেরপুরের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।
শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুপ্তা চাকমা বলেন, শেরপুর-জামালপুর সড়কের পোড়ার দোকান কজওয়ের উপর দিয়ে বিপদজনকভাবে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সরাসরি যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পোড়ার দোকান এলাকায় কজওয়েতে এ সংক্রান্ত একটি সতর্কতামূলক সাইন বোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে, উজান থেকে আসা পানিতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, দশানি, মৃগীসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরনো ভাঙা অংশগুলো দিয়ে প্রবলবেগে বন্যার পানি চরাঞ্চলে প্রবেশ করছে। এতে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারি, লছমনপুর, কামারেরচর, বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি, চরমুচারিয়া, লছমনপুরসহ ৬ ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
এসব এলাকার কাচাঁ রাস্তা-ঘাট, ফসল ও বিভিন্ন সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে। বন্যা কবলিত এলাকার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় শিশুদের নিরাপত্তার কারণে বিদ্যালয়গুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের দেওয়া তথ্য মতে, বন্যায় ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৫০/৬০ হাজার লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
সদর উপজেলার কামারের চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, ব্রহ্মুপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার গোয়ালপাড়া, গুচ্ছগ্রাম, দেওপাড়া, নিচ চরবাবনা, সাহাব্দির চর, ৬ নং চর, পয়স্তির চর ও ৭ নং চরের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার আবাদি সবজি তলিয়ে গেছে। শুরু হয়েছে নদী ভাঙন।
চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল রউফ জানান, বন্যায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুলুচর বেপারীপাড়া এলাকায় শতাধিক ঘরবাড়ী নদের গর্ভে চলে গেছে। এখন বাড়ী ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। নদী ভাঙা এবং পানিবন্দী মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
চরমুচারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, তার ইউনিয়নের শতকরা ৭৫ ভাগ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বন্যা কবলিত হয়েছে মুন্সীর চর, টানকাছাড়, নলবাইদ, মুকসুদপর, টাঙ্গারিয়া, হরিণধরা গ্রাম। এসব এলাকার আউশ ধান, আমন বীজতলা এবং সবজির আবাদ পানিতে ডুবে গেছে।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি।
হাকিম বাবুল/আরএস