শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : নিহত ১


প্রকাশিত: ০২:৩২ পিএম, ০২ আগস্ট ২০১৬

উজান থেকে নেমে আসা পানিতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, দশানী এবং মৃগী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেরপুরের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের কুলুরচর বেপারীপাড়া এলাকায় নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বন্যার পানিতে ডুবে মমিন মিয়া নামে চার বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যুর হয়েছে।

শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক সড়কের পোড়ার দোকান কজওয়ের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় ওই সড়কে দু’দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। চরাঞ্চলের ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, সোমবার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ‘ব্রহ্মপুত্র সেতু’ পয়েন্টে আরো সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ দশমিক ৭৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলের সাত ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের পর এবার নকলার দুইটি ও শ্রীবরদী উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের আরো সাতটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গ্রামের ধানক্ষেত, তরিতরকারির ক্ষেত, বীজতলা, রাস্তাঘাট এমনকি বাড়িঘরও তলিয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে তারা পড়েছেন বিপাকে।

Sherpur

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরপক্ষীমারি ইউনিয়নের কুলুরচর বেপারিপাড়া, বাঘলদি, ভাগলগর এবং কামারেরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর চর, গুচ্ছগ্রাম, ডাকাতের গোপ, পয়স্তির চর ও ৬ নম্বর চর গ্রামের পানিবন্দী লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, বাড়িঘরে পানি ঢুকে কয়েক দিন ধরে বন্দী হয়ে থাকলেও সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা তারা পাননি। তাদের সাহায্য সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি।

জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, শেরপুর জেলায় পাহাড়ি ঢল, বন্যা এবং নদী ভাঙনে বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

হাকিম বাবুল/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।