এক অসহায় মায়ের বাঁচার আকুতি
মা-বাবা আদর করে ফুলের নামে নাম রেখেছিল। ডালিয়া। খুব আদরের একমাত্র মেয়ে। মা-বাবার আদরে বড় হতে থাকে সে। কিন্তু অল্প বয়সেই বাবা মোকলেস হাওলাদার মারা যায়। ফুটফুটে সুন্দর শিশুটির জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। মা সেলিনা বেগম নিজে পরিশ্রম করে মেয়েকে বড় করেন।
কিশোরী বয়সেই ডালিয়ার বিয়ে হয়ে যায়। জন্ম নেয় সুন্দর ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। এর কিছুদিন পরই স্বামী তাকে ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এ গল্প মাদারীপুর সদর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সুবর্ণগ্রাম পত্রিকার কর্মচারী ডালিয়া আক্তারের। ডালিয়া এখন পেটের টিউমার নিয়ে বেঁচে আছেন।
জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে বিদেশে যাওয়ার জন্য দেশ ছাড়ে ডালিয়ার স্বামী। তারপর আর কোনো খবর নেই। ইতোমধ্যে ডালিয়ার শ্বশুর ও দেবরও মারা যান। তাই শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি বিছিন্ন হয়ে যায় ডালিয়ার। জীবনযুদ্ধে নেমে পড়তে হয় তাকে। মা ও মেয়েকে নিয়ে বাঁচার জন্য শুরু হয় লড়াই।
প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়ি গিয়ে অন্যের সন্তানদের পড়ানো, এরপর দৈনিক সুবর্ণগ্রাম পত্রিকার অফিসে খণ্ডকালীন চাকরি করেন। আবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়ি গিয়ে অন্যের সন্তানদের পড়ানো। এরই মাঝে চলে নিজের মেয়েকে স্কুলে আনা-নেয়া, রান্না, বাজার করাসহ আনুসাঙ্গিক কাজ।
এই অভাবের মধ্য দিয়েও মেয়ের পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি এসএসসি, এইচএসসি পাস করেছে। বর্তমানে বিএ পড়ছে। পড়াশুনা আর কাজের পাশাপাশি খুঁজতে থাকে একটা ভালো চাকরি।
হঠাৎ প্রায় ৪ বছর আগে শারিরীকভাবে মোটা হতে থাকে। ধরা পড়ে নানা অসুখ। পেটে নানা সমস্যা। কিন্তু টাকার অভাবে ডাক্তার দেখানো কিংবা কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মতো টাকা না থাকায় নিজের জীবনের প্রতি চরম অবহেলা করলেও মা ও মেয়েকে সুখে রাখার জন্য পরিশ্রম করতে থাকে।
সম্প্রতি পেটের টিউমার বড় হয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। শুরু হয় তীব্র ব্যথা। মাদারীপুরে একজন চিকিৎসককে দেখানো হয়। তিনি দ্রুত ঢাকায় গিয়ে অপারেশনের কথা বলেন।
আর তখন থেকেই ডালিয়ার জীবনের নেমে আসে আরো গভীর অন্ধকার। নিজের জন্য না হোক মা ও মেয়ের জন্য তার বাঁচার আকুতি দেখে অনেকেই চোখের জল ফেলেন।
ডালিয়া আক্তার বলেন, অপারেশনের জন্য ১ লাখ টাকা দরকার। সেই টাকা কোথায় পাবো। কিভাবে চিকিৎসা করাবো। এই বলে কাঁদতে থাকে তিনি। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।
ডালিয়ার ১০ বছরের মেয়ে ইভা বলে, আমার আম্মু আর নানী ছাড়া কেউ নেই। আম্মুর কিছু হয়ে গেলে আমার কি হবে? যেভাবেই হোক আমার আম্মু যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে যায় আল্লাহ কাছে এই দোয়ায় করি।
ডালিয়া ও তার মেয়ের এসব কথা শুনে স্থানীয় এক সাংবাদিক ছবিসহ ফেইজবুকে স্ট্যাস্টাস দেন। সেই স্ট্যাস্টাস দেখে অনেকেই এগিয়ে আসেন। মাদারীপুর জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ডালিয়ার হাতে তুলে দেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস।
এ ব্যাপারে দৈনিক সুবর্ণ গ্রামের প্রকাশক ও সম্পাদক প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এবিএম বজলুর রহমান রুমি মন্টু খান বলেন, ডালিয়া খুব ভালো একটা মেয়ে। ডালিয়াকে হাসপাতালে ভর্তিসহ সব ধরনের সহযোগিতা করবো। ইনশাআল্লাহ সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দেখে আমি ডালিয়ার জন্য এগিয়ে এসেছি। এই টাকা দিয়ে চিকিৎসা শুরু হোক। প্রয়োজনে তাকে আরো সাহায্য দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
নাসিরুল হক/এসএস/আরআইপি