গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ
বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী ইউনিয়নের খলশী গ্রামের এক গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী মামুন ও তার বান্ধুবী নাহিদাকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার বেলা ৪টার দিকে লিপি আক্তার (২০) নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত লিপি বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজ গ্রামের গোলাম হোসেনের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত পাঁচ বছর আগে লিপি আক্তারের সঙ্গে শার্শার ভুলোট গ্রামের মাযহারুল ইসলামের ছেলে মামুন হোসেনের বিয়ে হয়। স্ত্রীকে নিয়ে খলশী গ্রামের রেজাউলের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তারা। তাদের দম্পত্তি জীবন ভালোই ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর মামুন বেনাপোলের ভবেরবেড় গ্রামের নাহিদা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। রোববার সকালে মামুন নাহিদাকে নিয়ে খলশী বাড়িতে গেলে রেগে যান লিপি। এ নিয়ে উভয়ের মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় স্বামী ও নাহিদা মিলে তার ওপর নির্যাতন চালায়।
লিপির পরিবারের অভিযোগ, লিপিকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। এটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিহতের বাবা গোলাম হোসেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পোর্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও তার বান্ধুবীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে পরিকল্পিত হত্যা না আত্মহত্যা।
মো. জামাল হোসেন/এএম/আরআইপি