চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালের ৮০ ভাগ ডেলিভারি সিজারে


প্রকাশিত: ০৮:২৯ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৬

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালের ৮০ ভাগ ডেলিভারি হয় সিজার অপারেশনে। ব্যয়বহুল এই সিজার অপারেশনের কারণে বিপাকে পড়ছেন দরিদ্র প্রসূতিরা।

চিকিৎসা গবেষণা বা বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা মতে, জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সর্বোচ্চ ১০-১৩ ভাগ সিজার অপারেশনে প্রসবের কথা বলা হলেও ওই হাসপাতালটিতে ৮০ ভাগ শিশুর প্রসব ঘটানো হয় সিজার অপারেশনের মাধ্যমে। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে ৮ জনের শিশু ভূমিষ্ঠ হয় সিজারে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস) নামে একটি স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই জরিপে বলা হয়েছে, চিকিৎসা বিজ্ঞান বা বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় সর্বোচ্চ ১০-১৩ ভাগ শিশুর প্রসবে অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা দিলে জরুরি ক্ষেত্রে সিজারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক হাসপাতালগুলোর সঙ্গে চন্দ্রঘোনা মিশনারিজ হাসপাতালেও প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ শিশুর প্রসব ঘটানো হয় সিজারের মাধ্যমে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বর্তমানে ১০০ শয্যার ওই হাসপাতালে কেবল ৫ জন এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক দিয়ে চালানো হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। আর স্টাফ নার্সরা কাজ করেন দায়সারা গোছের। জুনিয়র নার্সরা রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এমনকি বকশিস ছাড়া রোগীদের সেবা দেন না তারা।

সব মিলিয়ে নানা অব্যবস্থপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চন্দ্রঘোনা মিশনারিজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম একেবারে বেসামাল হয়ে পড়েছে। ফলে রোগীরা ভুগছেন চরম ভোগান্তিতে। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রনজিৎ চাকমাসহ ৬ জন ডাক্তার পদত্যাগ করেছেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য ও গাইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান মিশনারিজ হাসপাতালে বাণিজ্যিক অপকৌশল হিসেবে ওভাবে একচেটিয়া সিজার অপারেশনের মাধ্যমে শিশুর ডেলিভারি ঘটানো হচ্ছে।

জানা যায়, সেবামূলক হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে যেখানে ব্যয় হয় ৩-৪ হাজার টাকা সেখানে চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে প্রসবের জন্য আদায় করা হয়ে থাকে ২৫-৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে এ হাসপাতালে স্বাভাবিক ডেলিভারি সেবার কোনো সুযোগ নেই। ফলে চরম বিপাকে পড়ছেন দরিদ্র প্রসূতিরা।

অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালের আয়ের প্রধান উৎস সিজার অপারেশনে সন্তান প্রসব। এটা ছাড়া হাসপাতালটিতে অন্য জটিল রোগীর উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা মেলে না।

সেখানে নেই কোনো গাইনী বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। হাসপাতালটি চলছে শুধু ৫ জন এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে। আর এতে প্রতিনিয়ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার জনগণ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালের নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. ডেভিড খান সংবাদকর্মীদের বলেন, এ মিশন হাসপাতালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মতানৈক্য, অব্যবস্থাপনাসহ নানা ধরনের অভিযোগ শোনা গেছে। তবে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখছি।

এগুলোর সমাধানকল্পে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ হাসপাতালের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দায়িত্বশীল সবাইকে এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।