রাজশাহীতে দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন : ৮ জন অগ্নিদগ্ধ
রাজশাহীতে দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সন্ধ্যার পর রাজশাহীর তানোর ও পবায় এদুটি এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আট অগ্নিদগ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে পবায় অগ্নিসংযোগকারী সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে জনতা। এছাড়া রাজশাহী নগরীতে ঝটিকা মিছিল থেকে চারটি ককটেল ফাটিয়েছে অবরোধ সমর্থকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাস ইয়া রাব্বি পরিবহন (ঝিনাইদহ জ-০৪-০০-৮) সন্ধ্যা সাতটার দিকে তানোরের ব্র্যাকের মোড়ে পৌঁছালে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে পালিয়ে যায় মুখোঁশধারী তিন দুর্বৃত্ত। এতে বাসটিতে আগুন ধরে গেলে নারী ও শিশুসহ ৮ জন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হন। এছাড়া তাহাহুড়ো করে নামতে গিয়ে আহত হন আরো ৭ যাত্রী।
তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের তানোর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অগ্নিদগ্ধদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এছাড়া অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। খবর পেয়ে তানোর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে আমনুরা থেকে ছেড়ে আসা আরেকটি যাত্রীবাহী বাস এসআর ট্রাভেলসে (যশোর ব-৭৮৩) পবা উপজেলার দুয়ারী এলাকায় পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে বাসটিতে আগুন ধরে গেলে তানোর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ অগ্নিদগ্ধ না হলেও আতঙ্কিত হয়ে নামতে গিয়ে ৫ যাত্রী আহত হন।
পুলিশ জানায়, বাসে বোমা নিক্ষেপকারী সন্দেহে পবায় আব্দুল আওয়াল ও মশিউর রহমান নামের দুই যুবককে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে জনতা। এদের পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসা চলছে। এছাড়া তানোরে হামলাকারদের সনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে, সন্ধ্যার পরই রাজশাহী নগরীর সোনাদীঘি মোড়ে ঝটিকা মিছিল থেকে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রদল কর্মীরা। এ ঘটনায় মুহূর্তে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় সড়কের যান চলাচল ও দোকানপাট। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাশকতা এড়াতে আইন-শৃংখলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এমএএস