১১ বছরেও শেষ হয়নি বিচার : নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার


প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৬

নানা জটিলটা ও সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে ভৈরবে এক পরিবারের তিনজনের খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার গত ১১ বছরেও শেষ হয়নি। একই সঙ্গে এ মামলার আসামিদের হুমকির ভয়ে আজো নিহতের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরতে পারছে না।

কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এখনো তিন খুনের হত্যা মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, তাদের বাড়ি-ঘর, জমি-জমা এ মামলার আসামিরা দখল করে রেখেছে। প্রতিনিয়ত সাক্ষীদেরকে ভয় ও হুমকি দিচ্ছে। তারপরও কয়েকজন এই মামলায় সাক্ষী দিয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ আরো কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য সম্পন্ন না হওয়াই মামলার কাজ শেষ হচ্ছে না বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

২০০৫ সালের ৩১ মে রাতে ভৈরব পৌর এলাকার কালীপুর গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করা হয়।

তারা হলেন, জালাল উদ্দিন (৪২), তার ছেলে সজল (১২) ও ভাগ্নে উজ্জল (১৮)।

ওই রাতে দুর্বত্তরা তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে পালিয়ে যায়। ঘটনার রাতে জালালের স্ত্রী মঞ্জু বেগম ও অপর দুই সন্তান সাজু ও সৌরভ বাসায় না থাকায় বেচেঁ যান তারা।

পরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী মঞ্জু বেগম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এরা হলো, কাইয়ূম, রফিক, মোশারফ, মোস্তোফা, গোলাম মাহবুব, মজনু মিয়া, আরমান, নয়ন, ওয়ারলেস, জাহাঙ্গীর, জয়দর, রিয়াজ উদ্দিন ও নুরুজ্জামান। আসামিদের সবার বাড়ি একই গ্রামে।

একই বছরের জুন মাসে চার আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হচ্ছে, নয়ন, আরমান, মোশারফ ও কাইয়ূম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এই মামলার চার্জশিট দেয়ার পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে ২০০৭ সালে বিচার কাজ শুরু করে।

নিহত জালালের ছেলে সাজু আহমেদ জানান, এ পর্যন্ত মামলার বাদী আমার মা ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন ডাক্তার গত দেড় বছর ধরে সাক্ষ্য দিতে আসছে না। ফলে ধীর গতিতে চলছে মামলার কার্যক্রম।

নিহত জালালের স্ত্রী মঞ্জু বেগম জানান, স্বামী, সন্তান ও ভাগ্নেকে হারিয়ে ১১ বছর যাবত নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এখনো আমি তিন ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যেতে পারছি না। আসামিরা আমাদের বাড়ি-ঘর জমি জমা দখল করে রেখেছে।

তিনি বলেন, মামলার বিচার কাজ আইনি জটিলতায় আজো শেষ হচ্ছে না। কবে শেষ হবে তাহাও জানি না। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় দেখার অপেক্ষায় আছি। জানি না কি হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পি পি শাহ আজিজুল হক জানান, যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ শেষ করতে সাক্ষী প্রমাণ লাগে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করতে হয়। এছাড়া আইনি জটিলতায় মামলার কাজ বিলম্ব হয়। এই মামলায় আরো কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি আছে।  

তিনি বলেন, আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যই মামলার কাজ শেষ হবে।  

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।