দিশেহারা মনিরামপুরের ৩০ হাজার পরিবার
যশোরের মনিরামপুরে ১৩০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণে মনিরামপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বাড়িঘর, মাছের ঘের, ফসল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পানিবন্দি মানুষের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ত্রাণ সংকটে রয়েছে সেখানকার মানুষ। মনিরামপুর উপজেলাকে বন্যাদুর্গত ঘোষণা করে পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ।
মনিরামপুর উপজেলাকে বন্যাদুর্গত ঘোষণা ও পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা প্রদানের দাবিতে বুধবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ মনিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টি ও একটি পৌরসভার ১৩০টি গ্রামের প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি। পানিবন্দি মানুষ পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা পাচ্ছে না। বাড়িঘর, ফসল, মাছের ঘের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার, সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, মনিরামপুরের কুলটিয়া, হরিদাসকাঠি, শ্যামকুড়, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর, মনোহরপুর, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটি, খানপুর, দুর্বাডাঙ্গা ও মনিরামপুর পৌরসভার ২২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ওই এলাকার প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের ৪০ হাজার বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পানিবন্দি দুই লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
মনিরামপুরে ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে চার হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির ১০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
স্বপন ভট্টাচার্য আরো বলেন, ১২ হাজার ৩০০টি পুকুর, ঘের, বাঁওড়, হ্যাচারিতে ১০ হাজার হেক্টর মাছের খামারে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ১০৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দি। বন্যার পানিতে এক হাজার অগভীর নলকূপ ও ২০ হাজার ল্যাট্টিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাদুর্গত মনিরামপুরে সাপের কাপড়ে সাতজনসহ ১১ জনের মৃত্য হয়েছে।
মিলন রহমান/এআরএ/আরআইপি