কুবির ছাত্রী নিবাসে বিস্ফোরণ : দুই ছাত্রী গ্রেফতার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পাশের একটি ছাত্রী নিবাসে বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি দগ্ধ ছাত্রী ফাহমিদা হাসান নিশাসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল বাশার বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম।
এদিকে মামলা দায়ের করার পরই গত মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা ছয়ছাত্রীর মধ্যে মামলায় অভিযুক্ত মর্জিনা ও নুরুন নাহারকে গ্রেফতার দেখিয়ে অপর চারজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালমানপুর এলাকার মনিরুল ইসলাম মৃধার প্রশান্তি নামের একটি ছাত্রী নিবাসে মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ছাত্রী নিবাসের নীচতলার একটি কক্ষের দরজা-জানালাসহ আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এতে ওই কক্ষে থাকা ছাত্রী ফাহমিদা হাসান নিশার শরীরের ৬৫ ভাগ দগ্ধ হয়। বর্তমানে নিশা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ মামলায় নিশাসহ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ৮ম ব্যাচের ছাত্রী কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পেরুল গ্রামের আলী মিয়ার মেয়ে মর্জিনা বেগম এবং আইসিটি বিভাগের ৮ম ব্যাচের ছাত্রী ঢাকার রায়েরবাগের নুর মোহাম্মদের মেয়ে নুরুন নাহারসহ অজ্ঞাতনামা আরো তিন ছাত্রীকে আসামি করে মোট ছয়জনের নামে মামলা দেয়া হয়েছে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ছাত্রীনিবাসের দুইটি কক্ষ থেকে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার লিফলেট, জামায়াত-শিবির ও মওদুদির লেখা বিভিন্ন বই উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রী ফাহমিদা হাসান নিশা ও তার বান্ধবী মর্জিনা বেগম ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্য। বিস্ফোরণের সঙ্গে ছাত্রীদের সম্পৃক্তার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে, ক্রাইমসিন টিমের পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিস্ফোরণের কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মো. কামাল উদ্দিন/এএম/এবিএস