পাটের আঁশে স্বপ্ন বুনছেন ১৩ হাজার নারী শ্রমিক


প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ২৮ আগস্ট ২০১৬

যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল ও শার্শার বিভিন্ন জনপদের জলাশয়ে জাগ দেওয়া পাট ধুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের প্রায় ১৩ হাজার নারী শ্রমিক। সোনালী আঁশের সঙ্গে মিশে গিয়ে আজ তারা জীবনের সোনালী স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটে-বাজারে বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণে পাট ছাড়ানোর কাজ চলছে। আবার অনেক স্থানে খরচ বাঁচাতে ‘রিবোন রেটিং’ পদ্ধতিতে আঁশ ছাড়ানোর জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ।     

শার্শা উপজেলার সামটা গ্রামে পাট ছাড়ানোর কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিক রেঞ্জুয়ারা খাতুন, আকলিমা খাতুন, বারিছোন বিবি, জরিনা বেগম, আলেয়া বেগমসহ অনেকে জানান, পাট মৌসুমে তারা সংসারের কাজের পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। আবার পাটকাঠি নেওয়ার শর্তেও তারা পাটের আঁশ ছাড়ান।

Part

বেনাপোলের বারোপোতা গ্রামের দিন মজুর নারী শ্রমিক জরিনা বেগম জানান, এক আঁটি পাট ছাড়ালে মজুরি পাওয়া যায় ২৫ টাকা। এভাবে দিনে ২০ থেকে ৩০ আঁটি পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াতে পারেন। অন্য সময় ক্ষেতমজুর হিসেবে যে টাকা পাওয়া যায় এখন পাট ধূয়ে তার চেয়ে তিনগুন বেশি টাকা পাওয়া যায়।

সংসারে একটু সুখ আনতেই পাট ধোয়ার কাজ করেন বলে জানান টেংরা গ্রামের তছলিমা খাতুন, খুকুমনি, মরিয়ম ও খাদিজা বেগম।

বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের কৃষক সাজেদুর রহমান সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, পাটের ফলন ভালো হয়েছে। জমি থেকে পাট কেটে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে পাট ছাড়ানো ও পঁচানোর জন্য কৃষি বিভাগ তাকে সার্বিক সহযোগিতা করছে। তবে এই পদ্ধতিটি সনাতন পদ্ধতির চেয়ে ব্যয়বহুল। বাজারে ভালো দামে পাট বিক্রি করতে পারবো কি না সেটাই চিন্তা করছি।

কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক স্থানে চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরাও খুশি। বর্তমানে কৃষকরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Part

শার্শা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষিবিদ হিরক কুমার সরকার জানিয়েছেন, শার্শা উপজেলায় দুই হাজার নারী নিজের জমিতে চাষাবাদ করেন। এছাড়া অন্যের জমিতে ক্ষেতমজুর হিসেবে কাজ করেন আরো চার হাজার নারী। তবে এই মৌসুমে পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানোর কাজ করেন সীমান্ত জনপদের প্রায় ১৩ হাজার নারী।

তিনি আরো জানান, শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এ বছর চার হাজার নয়শ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখানে আবাদ হয়েছে পাঁচ হাজার সাতশ হেক্টর জমিতে।

পাট চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছে কৃষি বিভাগ। সব মিলিয়ে উপজেলায় গতবারের তুলনায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। আশা করছি পাটে ভালো দাম পাবেন কৃষকরা।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।