বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ নীলফামারীবাসী
নীলফামারীর জেলা জুড়ে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ আর অন্যদিকে দিনের মধ্যে অন্তত ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। জমি ফেটে চৌচির হলেও বিদ্যুতের অভাবে কৃষকরা পানি দিতে পারছে না।
এদিকে গত রোববার রাতে বিদ্যুতের দাবিতে ডিমলা সদরের সদরহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘোরাও করে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় কর্মকর্তা কর্মচারীরা অফিস ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে ডিমলা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) এমআর সাঈদ নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে উপজেলার পিডিবির আওতাধীন প্রায় ৪ হাজার ও পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন ৬০ হাজার গ্রাহক। চরম এই লোড শেডিংয়ের কারণে অফিস আদালতসহ হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ দিন থেকে চলছে বিদ্যুতের চরম বিভ্রাট। অতিরিক্ত গরমে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
ডিমলা বাবুরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা জানায়, গত ১৫ দিন থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। দিনে রাতে সমান তালে চলছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। একবার বিদ্যুৎ গেলে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। গরমে দিনের আলোতে কোনোভাবে বিপণী বিতানগুলোর বেচা কেনা করলেও রাতে চরম বিপদে পড়তে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের।
ডিমলা বাবুরহাট বাজার লোহানী মালটিমিডিয়া কম্পিউটার দোকানের মালিক তরিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, গত ১ মাস থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যবসা নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে আইপিএস নিয়ে আসলেও রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সেটিও পড়ে রয়েছে।
ঈদ বাজারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে বেচাকেনা করতে না পেরে এমন অভিযোগ করেন শহরের অন্য ব্যবসায়ীরাও।
ডিমলা সদরের আলম প্লাজার মানিক ফ্যাশানের মালিক আমিনুর রহমান বলেন, দিনের বিভিন্ন ব্যস্ততা সেরে রাতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ক্রেতারা কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করেন। এ কারণে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন দোকান খোলা থাকে। কিন্তু এবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্রেতারা বাজারে আসছে না।
ডিমলা সদরের চাতাল ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান বলেন, গত প্রায় ১ মাস যাবত বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারণে চাতাল ব্যবসায় ধস নেমে পড়েছে। উপায় না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ রেখেছি। বিদ্যুতের কারণে এবার ব্যবসায় লোকসান গোনা ছাড়া আর কোনো উপয় দেখছি না।
এ ব্যাপারে ডোমার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী এমএস সরোয়ার জাহান জাগো নিউজকে বলেন, ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় প্রতিদিন ৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট প্রয়োজন। সেখানে আমরা প্রতিদিন পাচ্ছি মাত্র ৪ মেগাওয়াট। যার মধ্যে প্রতিদিন ডিমলা উপজেলায় চাহিদা থাকে ৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
তিনি আরো বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ডোমারে বিদ্যুৎ সরবাহ করা হয়েছে ৫ ঘণ্টা। আর ডিমলায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বলা হলেও সরবাহ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী তা আমাদের পূরণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
এফএ/এমএস