যশোরে হাটে ওঠার অপেক্ষায় ৭০ হাজার পশু
কুরবানি ঈদ উপলক্ষে যশোর অঞ্চলের ৭০ হাজার দেশি গরু হাটে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে। যশোরের আট উপজেলার খামারিরা এই ৭০ হাজার গরু, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজাকরণ করেছেন। ঈদের বাজার ধরতে দু-একদিনের মধ্যেই এই পশুগুলো হাটে উঠানো হবে।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার জানান, কুরবানিতে যশোর জেলায় ২৮ হাজার ২০০টি গরু ও ২৭ হাজার ৪০০টি ছাগলের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৭০ হাজার পশু লালন পালন করছেন জেলার ৮ উপজেলার খামারিরা।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন কুরবানি উপলক্ষে যশোরে ৭০ হাজার ২৫টি পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ৩৪ হাজার ১৭৯টি, ছাগল ৩৪ হাজার ২৭০টি, ভেড়া ১ হাজার ৮০৮টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনিরামপুর উপজেলায় ১৩ হাজার ৪১৮টি পশুর মধ্যে ৫ হাজার ৮২১টি গরু, ৭ হাজার ৪২৫টি ছাগল ও ১৭২টি ভেড়া রয়েছে।
এছাড়া যশোর সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৪৫৮টি পশুর মধ্যে গরু ৫ হাজার ৭২১টি, ছাগল ৩ হাজার ৩৭২টি, ভেড়া ৩৬৫টি। ঝিকরগাছা উপজেলায় ৫ হাজার ৭৯১টি পশুর মধ্যে ৩ হাজার ৬৫০টি গরু, ২ হাজার ২১টি ছাগল ও ১২০টি ভেড়া। শার্শা উপজেলায় ৫ হাজার ৭৭২টি পশুর মধ্যে গরু ২ হাজার ৮৩৫টি, ছাগল ২ হাজার ৩৭৭টি, ভেড়া ৫৬০টি রয়েছে।
কেশবপুর উপজেলায় ৭ হাজার ২১১টি পশুর মধ্যে গরু ২ হাজার ৮৮১টি, ছাগল ৪ হাজার ২০৫টি ও ভেড়া ১২৫টি। অভয়নগর উপজেলায় ১০ হাজার ৬৬৩টি পশুর মধ্যে গরু ৩ হাজার ৯৯২টি, ছাগল ৬ হাজার ৩৯০টি, ভেড়া ২৮১টি রয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলায় ৭ হাজার ৭৯৫টি পশুর মধ্যে গরু ৪ হাজার ৩৬০টি, ছাগল ৩ হাজার ২৫০টি ও ভেড়া রয়েছে ১৮৫টি। চৌগাছা উপজেলায় ১০ হাজার ১৪৯টি পশুর মধ্যে গরু ৪ হাজার ৯১৯টি ও ছাগল রয়েছে ৫ হাজার ২৩০টি।
যশোরের পশু খামারিরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে সীমান্তপথে ভারতীয় গরুর আমদানি অনেক কমে গেছে। এজন্য তারা দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ করে লাভবান হচ্ছেন। এবারও কোরবানির আগে ভারতীয় গরু না আসলে তারা ভাল দাম পাবেন। দেশীয় গরু পালনে উদ্বুদ্ধ করতে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ করা উচিত বলেও জানিয়েছেন যশোরের খামারিরা।
যশোর সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের খামারি রফিকুল ইসলাম জানান, এবার কোরবানি উপলক্ষে তিনি ৮টি গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন। আর কয়েকটা দিন গেলেই তিনি গরুগুলো হাটে তুলবেন। গতবারও তিনি গরু পালন করে লাভবান হয়েছিলেন। এবারও ভাল দাম পাবেন বলে আশা করছেন।
যশোরের মনিরামপুরের শ্রীপুর গ্রামের খামারি ওমর ফারুক জানান, কোরবানি উপলক্ষে তিনি ত্রিশটি গরু মোটাতাজা করেছেন। বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলে আসন্ন কোরবানি ঈদে গরু বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি আরো বলেন, খামারের পরিসর বাড়াতে ঋণ নিতে বহুদিন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে ধর্না দিয়েও তা পাওয়া যায়নি। দেশীয় গরু পালন বাড়তে খামারিদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থারও দাবি জানান তিনি।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার পশুর হাট সম্পর্কে জানান, ভারতীয় গরু না আসলেও কুরবানির জন্য কোনো সংকট হবে না। যশোর জেলার খামারিরা জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু পালন করেছেন। তাই জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরের জেলায় কুরবানির পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আগে দেশীয় পশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর ইনজেকশন ও হরোমন প্রয়োগে প্রবণতা ছিল খামারিদের মধ্যে। কিন্তু এখন অনেক সচেতন হয়েছেন খামারিরা। তারপরও এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক করছি। কোনো খামারির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএস/এমএস