দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা


প্রকাশিত: ০৬:১৮ এএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত রয়েছেন গো-খামারিরা। এ বছর জেলার ১২টি উপজেলার ৭ হাজার ৮১৮টি খামারে ১৯ হাজার ৪২৩টি গরু-মহিষ এবং ২৮ হাজার ২২৮টি ছাগল ও ভেড়াসহ পারিবারিকভাবে প্রায় ৩ লাখ গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রাণী সম্পদ বিভাগের মতে, ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ থাকা ও দেশীয় পদ্ধতির মোটাতাজাকরণ পশুর চাহিদা বেশি থাকায় এ খামারগুলো গড়ে উঠেছে। এছাড়া ক্ষতিকর হরমোন ও ইনজেকশন প্রয়োগে গরু মোটাতাজাকরণের কুফল প্রসঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় পদ্ধতি গ্রহণ করছে খামারি ও কৃষক।

জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মৎস্য ও পশু খাদ্য আইন ২০১০ এ মৎস্য ও পশু খাদ্যে অ্যান্টিবায়েটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি আর খামারিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলায় প্রায় ৩ লাখ গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।

Tangail

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলির রাগবাড়ীতে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি গরুর খামার। সৌদী আরব প্রবাসী আব্দুর জব্বার ও তার দুই বন্ধুু মিলে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ছয় মাস আগে ১২ লাখ টাকায় ১২টি গরু ক্রয় করে একটি খামারের যাত্রা শুরু করেন। এ উদ্দেশ্যে তারা গরু লালন পালনের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ঘর তৈরি করেন।

এই খামারে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতির ঘাস, লতাপাতা, খড়, গুড়সহ বিভিন্ন ধরনের ছোলা, ডাল, খৈল, ভূষি ও ভাতের মাড় খাওয়ানোর মাধ্যমে ও সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য সম্মতভাবে গরু হৃষ্ট পুষ্ট করা হচ্ছে। দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের সাফল্য লক্ষ্য করে খামারটিতে তারা আরো ১২টি গাভী ও ৮টি ষাঁড় বাছুর ক্রয় করে গড়ে তুলেছেন একটি ডেইরি ফার্ম। বর্তমানে এই খামারে গরু রয়েছে ৩২টি।

প্রতিদিন এই ডেইরি ফার্ম থেকে ১ মণ দুধ পান তারা। এই দুধ বিক্রি করে খামারের সকল খরচ বাদেও ভালো টাকা আয় হচ্ছে বলেও জানান জব্বার মিয়া। এবারের কোরবানির হাটে তাদের খামারের ৮টি ষাঁড় বিক্রির জন্য উঠাবেন বলেও জানান তিনি।

Tangail

এ সময় তিনি আরো জানান, উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের সহযোগিতা আর স্থানীয় ভেটেনারি পল্লী চিকিৎসক আমিরুল ইসলামের পরামর্শে এখন এ ডেইরি ফার্মটি উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে খামারটিতে ৮০ লাখ টাকার সম্পদ হয়ে উঠেছে।

একইভাবে এ ইউনিয়নের রবিউল ইসলাম, বেল্লাল হোসেন, সাইফুল ও হারুন মিয়া গড়ে তুলেছেন গরু মোটাতাজাকরণের কয়েকটি খামার। এছাড়াও জেলার মির্জাপুর, সখীপুর, বাসাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধনবাড়ী, মধুপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, গোপালপুর, ভূঞাপুর ও টাঙ্গাইল সদরে ব্যাপক হারে গড়ে উঠেছে এ ধরনের পশু খামার।

কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে খামারি ও পারিবারিক পর্যায়ের গরু পালনকারীদের মধ্যে ততই আশা দানা বাঁধছে। এ বছর ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ থাকায় দেশীয় গরুর চাহিদা ও দাম ভালো পাবেন এমন আশাই তাদের।

Tangail

এ প্রসঙ্গে কাতুলি ইউনিয়ন কৃত্রিম প্রজনন কর্মী মো. আমিরুল ইসলাম জানান, গরু মোটাতাজাকরণ খামারে যাতে ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে সে ব্যাপারে খামারি ও কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এর ব্যবহার বন্ধে পর্যাপ্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.জামাল উদ্দিন জানান, এ বছর জেলার ১২টি উপজেলায় ৭ হাজার ৮১৮টি গরুর খামার গড়ে উঠেছে। এ বছর খামারগুলোতে ১৯ হাজার ৪২৩টি গরু-মহিষ আর ২৮ হাজার ২২৮টি ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।

এছাড়াও জেলার ১২টি উপজেলায় পারিবারিকভাবে প্রায় ৩ লাখ পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এতে জেলার কোরবানির গরুর চাহিদা পূরণ হবে। কৃষক ভালো লাভবান হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বছর জেলায় গরু মোটাতাজাকরণে অ্যান্টিবায়েটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ বন্ধে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।

এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।