সমতলে কদর খাগড়াছড়ির দেশি গরুর
আর কয়েকদিন পরই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা। ইতোমধ্যেই মুসলমানদের ঘরে কড়া নাড়তে শুরু করেছে এ উৎসব। সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের পশুটি ক্রয় করতে ছুটছেন হাট থেকে হাটে। ব্যস্ততা যেন সকলের পিছু ছুটছে। সবার আগে নিজের পছন্দের পশুটি কব্জায় নেয়াই যেন সবার কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি থেকে অন্যান্য বছরের মতো এবারো বিপুল সংখ্যক গরু পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী যাচ্ছে। এখানকার পশুর হাটসহ বিভিন্ন পাহাড়ি পল্লীতে এখন সমতল জেলার বেপারিদের আনাগোনা। তারা পাহাড়ি পাড়াগুলো ঘুরে ঘুরে গরু ক্রয় করছেন। আর প্রতিদিনই ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন সমতলের জেলাগুলোতে।
এদিকে, ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে খাগড়াছড়ির ১৫টিরও বেশি কোরবানির হাট এখন বেশ সরগরম। দীঘিনালার থানাবাজার, বোয়ালখালী, মেরুং, মহালছড়ির মাইসছড়ি, রামগড়, মাটিরাঙ্গা ও খাগড়াছড়ি সদরের পশুর হাটে শেষ মুহূর্তের কোরবানির পশু বেচাকেনার ধুম পড়েছে। 
প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক, খামারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে হাটে আসছেন। স্থানীয় দেশি জাতের গরুর জন্য নির্ভরযোগ্য খাগড়াছড়ি বিখ্যাত বলে শহর থেকে অনেকেই আসেন নিজের পছন্দের কোরবানির পশুটি ক্রয় করতে।
স্থানীয় বাজারগুলোতে ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে দেশি গরু। ক্রেতা-বিক্রেতাসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোট আকারের গরু ৩০ থেকে ৪০ হাজার, মাঝারি আকারের গরু ৪০ থেকে ৫০ হাজার আর বড় আকারের গরু লাখ টাকারও বেশি বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার খাগড়াছড়ির সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট হিসেবে পরিচিত মাটিরাঙ্গা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন আকারের গরুতে বাজার সয়লাব। পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লার ও নোয়াখালী থেকে আসা বেপারীদের উপস্থিতি ব্যাপক।
গরুর দাম বেশি হলেও দেশি গরুতে চাহিদা বেশি থাকায় এ দিন বাজারে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানালেন মাটিরাঙ্গা বাজারের ইজারাদার সমিতির নেতা মো. জসিম উদ্দিন ডিলার। 
তিনি জানান, প্রতি হাটবারে বিপুলসংখ্যক গরু সমতলের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। শুধু মাটিরাঙ্গার কোরবানির পশুর হাট থেকে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২০০ গরু বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী মো. আবদুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, দাম একটু বেশি হলেও দেশি গরুতেই আমার আস্থা। আর তাই এতো দূর থেকে ছুটে এসেছি নিজের পছন্দের কোরবানির পশুটি ক্রয় করতে।
সরকারি চাকরিজীবী সাহাদাত হোসেন বলেন, পর্যাপ্ত গরু থাকলেও দাম অনেক বেশি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, খাগড়াছড়ির গরু সমতলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার কারণে এখানকার বাজারে দাম চড়া। 
গরু বিক্রি করতে আসা স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো ধরনের ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিকভাবে এখানকার গরু পালন করা হয়ে থাকে।
আর তাই সমতলের জেলাগুলোতে পাহাড়ের এসব দেশি গরুর বেশ কদর রয়েছে। ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও সমতল থেকে বহু ক্রেতা খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পশুর হাটে আসেন। আবার অনেকেই এখান থেকে পশু কিনে সমতলে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠান।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এখানকার গরু কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই বেড়ে ওঠে। পাহাড়ের গরুর আকার, রঙ ও গঠন প্রকৃতি সুন্দর ও সুঠাম হওয়ার কারণে সমতলের লোকজনের কাছে খাগড়াছড়িসহ পাহাড়ের দেশি জাতের গরুর বিশেষ চাহিদা রয়েছে।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এসএস/এমএস