তারুণ্যে পৌঁছেছে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য
আজ ৫ সেপ্টেম্বর। টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য ২১ বছর অতিক্রম করে ২২তম বছরে পদার্পণ করেছে। সীমান্ত জনপদ টেকনাফবাসীর জন্য আজ একটি স্মরণীয় দিন।
১৯৯৫ সনের ৫ সেপ্টেম্বর বর্ষণ মুখর দিনে বাংলাদেশের টেকনাফ এবং মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল।
অবকাঠামোসহ নানা ধরনের সমস্যা এবং সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে। রফতানি বাণিজ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নিত্য নতুন আইটেমের পণ্য।
এদিকে, দেরিতে হলেও সীমান্ত বাণিজ্যের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে ক্রমান্বয়ে তা নিরসন করতে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ। বাংলাদেশের টেকনাফ ও কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের মংডুসহ বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে এই গ্রুপের ৮টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য চালু হওয়ার পর থেকে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২১ বছরে টেকনাফ স্থল বন্দর মোট রাজস্ব আয় করেছে ১ হাজার এক কোটি ৩৬ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৪ টাকা এবং এই ২১ বছরে টেকনাফ স্থল বন্দর থেকে ১৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৯৭ হাজার ২২০ টাকা মূল্যের বাংলাদেশি পণ্য মিয়ানমারে রফতানি হয়েছে।
২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে মাসিক রাজস্ব আয়ের বাজেট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিল ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। উক্ত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৭৬টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে শুধু কাস্টমস খাতেই রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা বেশি আয় হয়েছে। সব মিলে রাজস্ব আয় হিসাব করলে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৩০১ টাকা বেশি হয়েছে।
জুলাই মাসে টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৫ টাকা মূল্যের পণ্য মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে। তার মধ্যে ১৭ কোটি ৮৯ লাখ ৭৯ হাজার ১২৬ টাকা মূল্যের পণ্য শুল্কযুক্ত এবং ২৭ লাখ ১০ হাজার ১২৯ টাকা মূল্যের পণ্য শুল্কমুক্ত। ওই মাসে ২৩টি চালানে ৭৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের বাংলাদেশি ২৬ আইটেমের পণ্য টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে মিয়ানমারে রফতানি হয়েছে।
অর্থবছরের ২য় মাস আগস্টে মাসিক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। উক্ত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৭৬টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে সব মিলে রাজস্ব আয় করেছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮৭ টাকা।
আগস্ট মাসে টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে ৪৪ কোটি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৬ টাকা মূল্যের পণ্য মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে। তার মধ্যে ৪৩ কোটি ৫২ লাখ ৩৮ হাজার ৯২৫ টাকা মূল্যের পণ্য শুল্কযুক্ত এবং ৪৯ লাখ ৫৯ হাজার ৪১১ টাকা মূল্যের পণ্য শুল্কমুক্ত। ওই মাসে ৫৫টি চালানে ২ কোটি ৬০ লাখ ২৫ হাজার ৯২১ টাকা মূল্যের বাংলাদেশি ৪১ আইটেমের পণ্য টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে মিয়ানমারে রফতানি হয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এসএস/পিআর