সার নিয়ে পাটুরিয়ায় আটকা পড়েছে অর্ধশত কার্গো


প্রকাশিত: ০২:২৭ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৫

যমুনা নদীর পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী রুটের দুটি পয়েন্টে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সার, কয়লা ও সিমেন্ট বোঝাই প্রায় অর্ধশত কার্গো জাহাজ পাটুরিয়া ফেরিঘাটের অদূরে বরুরিয়া এলাকায় নোঙর করে আছে।

নোঙর করা এসব কার্গো জাহাজের অধিকাংশই সার বোঝাই। যা উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সরবরাহের জন্য আনা। এতে ইউরিয়া ও এমওপি মিলিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন সার বোঝাই রয়েছে বলে জানিয়েছেন সার পরিবহন এজেন্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বরুরিয়া এলাকায় পদ্মার তীর ঘেষে সারি সারি জাহাজ নোঙর করে আছে। পাটুরিয়া থেকে বাঘাবাড়ী রুটের ৩৬ কিলো মিটার যমুনা নদী পথের মানিকগঞ্জ ও পাবনা জেলার সীমাবর্তী মোল্লার চর ও সিরাজগঞ্জের ব্যাটারির চর পয়েন্টে নাব্যতা পরিস্থিতি বেশ নাজুক। সেখানে মাত্রারিক্ত লোড নিয়ে কোনো কার্গো জাহাজ যাতায়াত করতে পারছে না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)এর যুগ্ম পরিচালক (নৌ সংরক্ষণ বিভাগ) একেএম সাজাহান হোসেন জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদী পথের গভীরতা এমনিতে কম। এই রুটে পানির সর্বনিম্ন গভীরতা ৭ ফুট। কিন্তু ওই সব কার্গো জাহাজের গভীরতা ১০ ফুটেরও বেশী। এজন্য মালগুলো আনলোড নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে।

মালবাহী এসব জাহাজ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ নদীর নাব্যতা না থাকায় বাধ্য হয়ে ওইসব কার্গো থেকে অন্য ট্রলারে সার আনলোড করে গন্তব্যে যাত্রা করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ওই সব ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিকে দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে।

মের্সাস প্রোটন ট্রেডার্স এর প্রতিনিধি মো. জুয়েল শেখ জানান, তাদের কোম্পানির ১৬টি কার্গো জাহাজ নগরবাড়ী ও বাঘাবাড়ী যাওয়ার জন্য পাটুরিয়া ঘাটের কাছে বরুরিয়া এলাকায় নোঙর করে আছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হি নোঙর থেকে সার বোঝাই করে ছেড়ে আসার পর যমুনা নদীর মোল্লার চর ও ব্যাটারির চর এলাকায় তাদের জাহাজগুলো আটকে যাচ্ছে। প্রায় ২২ দিন ধরে তারা পাটুরিয়ার অদূরে আটরা রয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে সার আনলোড করার পর মাল গন্তব্যে নেয়া হচ্ছে।

আটকা পরা জাহাজের মাস্টারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি থেকে নাব্যতা সংকট শুরু হয়েছে। তাদের যে পরিমাণ মালের লোড তা নিয়ে নগরবাড়ী কিংবা বাঘাবাড়ি রুটের যমুনা নদীর মোল্লার চর ও ব্যাটারির চর এলাকায় আটকে যাবে। ইতোমধ্যে তাদের ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর সিএমপি বিভাগ থেকে তাদের জানানো হয়েছে।

পাটুরিয়া-নগরবাড়ী নৌ পথে ৭ ফুট পানির গভীরতা রয়েছে। কিন্তু তাদের প্রতিটি জাহাজের গভীরতা কম করে হলেও ১১ ফুট। এমতাবস্থায় তাদের প্রতিটি সার বোঝাই জাহাজ থেকে প্রায় ৭০ ভাগ মাল আনলোড করতে হচ্ছে।

মের্সাস প্রোটন ট্রেডার্স এর প্রতিনিধি জুয়েল শেখ আরো জানান, এই আনলোড করতে তাদের বস্তা প্রতি ১৫ টাকা করে খরচ পরে যাচ্ছে। এছাড়া চলমান অবরোধের কারণে বস্তা না আসায় তারা আনলোড করতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পরতে হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোনো জাহাজ থেকে যদি কেয়ারিং কোম্পানি এক নাগারে ২২ দিনের মধ্যে মাল আনলোড না করতে পারে সেক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া প্রদান করতে হচ্ছে জাহাজ কোম্পানিকে। চট্টগ্রাম থেকে একটি সার বোঝাই জাহাজ নগরবাড়ী কিংবা বাঘাবাড়ী পর্যন্ত ভাড়া প্রায় ৬ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর সিএমপি বিভাগের পাইলট ইন্সপেক্টর মো. হেলাল উদ্দিন ও এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী জানান, খুব সহসায় নাব্যতা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাচ্ছেনা। বিভিন্ন মালবাহী কার্গো জাহাজ ওভার লোড নিয়ে আসে। শুষ্ক মৌসুমে এই রুটে ৭ থেকে ৮ ফুটের বেশি পানি থাকেনা।
 
এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।