পর্যটক সমাগমে মুখর পাহাড়
ঈদের দিন পর্যটকদের উপস্থিতি কম থাকলেও পরদিন থেকেই পাহাড়-প্রকৃতির টানে খাগড়াছড়িতে ভিড় জমিয়েছে হাজারো পর্যটক। বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসা পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত খাগড়াছড়ির অরণ্য।
খাগড়াছড়ির আলুটিলার রহস্যময় সুরঙ্গ, মাটিরাঙ্গার রিছাং ঝর্ণা, খাগড়াছড়ির উপকন্ঠের জেলা পরিষদ পার্ক, দীঘিনালার তৈদুছড়া ঝর্ণা আর পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটির যেন তাদের বিনোদনের অন্যতম চারণভূমি হিসেবে পরিণত হয়েছে।
নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেও খাগড়াছড়িতে আসা পর্যটকদের জন্য সেভাবে সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি এমনটাই অভিযোগ ভ্রমণ পিপাসুদের।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কের দায়িত্বরত কর্মকতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলের দিকে পর্যটকের উপস্থিতি কম থাকলেও পরদিন হাজারো পর্যটকের ঢল নামে জেলা পরিষদ পার্কে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা জেলা পরিষদ পার্ক। দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঝুলন্ত সেতু আর ট্রেন। 
ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী শামিউল হকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কে। খাগড়াছড়িকে সৌন্দর্যের চারণভূমি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদের ছুটিকে কাজে লাগাতেই বন্ধুদের সঙ্গে ছুটে এসেছেন খাগড়াছড়িতে। পাহাড়, ঝর্ণা, গুহা আর শতবর্ষী বটবৃক্ষ বরাবরই তাকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসে উল্লেখ করে তিনি পর্যটকদের জন্য আবাসন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান।
সপরিবারে ঘুরতে আসা স্কুল শিক্ষক লাকী বলেন, ঈদের ছুটিকে প্রকৃতির সঙ্গে উপভোগ করতেই খাগড়াছড়িতে ছুটে আসা। শুক্রবার পর্যন্ত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, পাহাড় ও প্রকৃতি দেখে খুব মুগ্ধ তার পুরো পরিবার। ভ্রমণের কষ্ট ছাপিয়ে গেছে সৌন্দর্য্যের কাছে। তিনিও খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা বলেন।
ফেনী থেকে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লুবনার মতে, খাগড়াছড়ির পাহাড়, ঝর্ণা আর গুহা বিধাতার অনন্য সৃষ্টি। খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও বলেন তিনি।
ঈদকে ঘিরে হোটেল-মোটেলগুলো আগাম বুকিং ছিল বলে অনেকেই জায়গা পায়নি বলে জানান খাগড়াছড়ি জেলা হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। ঈদের পরও সপ্তাহজুড়ে খাগড়াছড়ির সব হোটেল বুকিং আছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, খাগড়াছড়িতে ঘুরতে আসা বিনোদন প্রেমী পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার প্রত্যেকটি বিনোদন কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতয়েন করার কথা নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বিপিএম (সেবা) বলেন, পর্যটকরা যেন নিরাপদে বিনোদন কেন্দ্রে ভ্রমণ ও হোটেল-মোটেলে ফিরে আসতে পারে সেজন্য সতর্ক রয়েছে পুলিশ সদস্যরা।
এসএস/আরআইপি