তিস্তার বুকজুড়ে উৎসব


প্রকাশিত: ০২:৪২ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

ঈদ আনন্দ উপভোগে ঈদের পরের দিন থেকে নীলফামারীর তিস্তা অববাহিকার দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ, ১৫৫ একর জমির উপর বিন্যাবতী রানির বিশাল দিঘি নীলসাগর, ধর্মপাল রাজার-গড় ধর্মপালের পুরান কীর্তি এবার পর্যটককে বেশি কাছে টানছে। তাই এসব প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্রে সপরিবারে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সব ব্যস্ততা কাটিয়ে এখন তিস্তার বুকজুড়ে চলছে ঘুরে বেড়ানোর উৎসব।

কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্রের চেয়ে প্রকৃতির বিনোদনের আনন্দ উল্লাসে রয়েছে ভিন্নতার আমেজ। ভিন্নজগত, স্বপ্নপুরী, আনন্দনগর এবং মায়া কাননের কৃত্রিমতার বিনোদন কেন্দ্রগুলো এবার ঈদ উৎসবে খুব একটা কাছে টানতে পারেনি।

নগর জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষগুলো প্রকৃতির বিনোদন কেন্দ্রে এসে যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতি যেন তাই বলে।

বৃহস্পতিবার ঈদের তৃতীয় দিন পার হলেও এখনো পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের মিলন মেলায় ভরপুর এসব এলাকা। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষজন। ফলে এসব এলাকা শিশু থেকে শুরু করে, যুবক-যুবতি, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, ছাত্র-ছাত্রীসহ সব বয়সের মানুষদের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

পর্যটকদের বহনকারী গাড়িগুলোতে শোভা পাচ্ছে নানান রঙয়ের বর্ণিল কাগজ ও পরিচয়ের ব্যানার। বাস, মাইক্রো, পিকআপ, নছিমন, করিমন, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, আর পায়ে হাটা মানুষদের উপস্থিতে যেন মনের খোরাক মেটাবার উপভোগ্য এক পরিবেশ। সবমিলে ভ্রমণপিপাসু মানুষরা প্রকৃতির বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে সরব করে তুলেছে।

বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, উপজেলা শহর এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের নামে লেখা ব্যানারের গাড়িগুলোতে মাইক বাজিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের।

তিস্তা অববাহিকা বাসিন্দারা নানান রকম খাবার দোকানসহ বাড়তি বিনোদনের জন্য বসিয়েছেন চর্কিখেলা, মিনি লটারিখেলা, বেলুন, টার্গেট সুট খেলাসহ বিভিন্ন সামাজিক খেলা। এতে বাড়তি কেনা-বেচায় দোকানিরাও বেশ খুশি। আরো বেশি বিনোদন উপভোগের জন্য নদীরধারে প্রস্তুত রয়েছে স্পিডবোট ও নৌকা। উজান থেকে তিস্তার ঢেউয়ের সঙ্গে প্রকৃতির বাতাস শরীরের দোলা লাগাতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। নৌকা বা স্পিডবোটে জনপ্রতি মাত্র ১০-২০ টাকায় দর্শনার্থীদের নিয়ে তিস্তা নদীর বুকজুড়ে ঘুরছে দর্শনার্থীরা।

পাশাপাশি তিস্তাপাড়ে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসবের সঙ্গে রয়েছে নিজেদের রান্না করা খাবার। খোলা মাঠে গাছের ছায়ায় একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া। মুক্ত পরিবেশে মন খুলে গল্প করা যেন আনন্দের মাত্রাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে বিন্যাবতী রানির নীলসাগর দিঘির বিশাল এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। পুরো দিঘি ঘুরে দেখতে রয়েছে ঘোড়ার গাড়ি। রয়েছে স্পিডবোট। ভাড়া ২০ টাকা। দিঘি ভর্তি ঠান্ডা পানির পরশ মানুষের মন-প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ গোসলে নেমে পড়ছে।

পাশাপাশি জলঢাকায় রয়েছে ধর্মপাল রাজার গড়। চলতি বছর সেখানে খনন করে পাওয়া গেছে ধর্মপাল রাজার মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়া মন্দির, রাজপ্রাসাদসহ অনেক নিদর্শন। এগুলো সংরক্ষণ করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এসব কীর্তি দেখতে ছুটে আসছে মানুষজন।

তিস্তা অববাহিকার এলাকার ঘুরতে আসা রফিকুল, লেবু, সামিউলসহ অনেকে জানান, শুধু ঈদেই নয়, বিশেষ কিছু দিনেও তিস্তা অববাহিকা মানুষের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে।  

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসবে এখানে মানুষজন প্রকৃতির বিনোদনে ভিড় করে। এবার ভিড়টা আরো বেশি। আনসার সদস্যসহ পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দর্শনার্থীদের সেবায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এখানে জানা ও শেখার অনেক বিষয় রয়েছে। অসংখ্য শিক্ষার্থী তিস্তা ব্যারেজের সেচ কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হয় তা ঘুরে দেখছে এবং কোন জিজ্ঞাসা থাকলে তা পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারছে।

ধর্মপাল গড় এলাকার সতিষ চন্দ্র রায় বলেন, আগে এখানে লোক আসতো না। এখন হাজারো মানুষজন ছুটে আসছে ধর্মরাজার গড় দেখতে। মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধর্মরাজার মন্দির, রাজপ্রাসাদ দেখতে আসছে দর্শনার্থীরা। বিনা টিকিটে মানুষজন প্রকৃতির আলো বাতাসে এসব ঘুরে ঘুরে দেখছে।

জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জাগো নিউজকে জানান, নীলসাগর দিঘি এলাকা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে প্রশাসন। এখানে দর্শনার্থীদের সব ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে। কেউ রাতযাপন করতে চাইলে রেস্টহাউস রয়েছে। মাছ শিকার করতে চাইলে তারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।