অপহরণের চারদিন পর শিশু উদ্ধার : আটক ৩


প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

অপহরণের চারদিন পর নওগাঁর রাসিফ সাগর (৯) নামে এক শিশুকে বগুড়া জেলার ধুনট থানা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট তিনজন অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার সেরবাড়ী ঘাট হতে মাদারগঞ্জ যাওয়ার পথে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। রাসিফ সাগর নওগাঁ সদর উপজেলার চকপাথুরিয়া গ্রামের পিন্টু রহমানের ছেলে।

আটককৃতরা হলেন, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ছুড়িপাড়া গ্রামের মেজবাউল ইসলামের ছেলে সুজন মিয়া (৩০), তার কথিত স্ত্রী রাবেয়া বিবি (২০) এবং অপর কথিত স্ত্রী রহিমা বিবি (২৬)।

রাসিফের বাবা পিন্টু রহমান জানান, সুজন মিয়া এবং রহিমা বিবি স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ১২ দিন আগে তার নিজ বাড়ি চকপাথুরিয়া গ্রামের একটা ঘর ভাড়া নেন। সেখানে ৫/৭ দিন থাকার পর তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। আবার ঈদের দু’দিন আগে ভাড়া বাড়িতে আসে। পরদিন গত ১২ সেপ্টেম্বর তাদের বাড়িতে না থাকার সুযোগে ছেলে রাসিফকে চিপস কিনে দেয়ার কথা বলে আর ফিরে আসেনি। এরপর ৪/৫ ঘণ্টা পর সুজন মিয়া এবং রহিমা বিবি আমার (পিন্টু রহমান) মোবাইলে ফোন দিয়ে ছেলে রাসিফকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর রহিমা বিবিকে আটক করা সম্ভব হলেও সুজন মিয়াকে আটক করা সম্ভব হচ্ছিল না। সুজন মিয়া মোবাইল ফোনে পিন্টু রহমানের কাছ থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা নেয়ার জন্যে বারবার চাপ দিতে থাকে। তখন কৌশুলে কিছু টাকা বিকাশ ও ফ্ল্যাক্সিলোড দিয়ে কথোপকথনের মধ্যে সুজন মিয়ার অবস্থান নিশ্চিত করার জন্যে চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু মোবাইল ফোনে কথা শেষ হতেই মোবাইল ফোন বন্ধ করে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন তিনি।

কখনো রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, জয়পুরহাট এবং বগুড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয়। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার সেরবাড়ী ঘাট হতে মাদারগঞ্জ যাওয়ার পথে শিশু রাসিফকে উদ্ধারসহ সুজন ও তার অপর কথিত স্ত্রী রাবেয়াকে আটক করা হয়। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৮ টায় নওগাঁ সদর থানায় শিশু রাসিফকে নিয়ে এসে তার অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, অপহরণকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদের সাথে আরো যারা জড়িত তাদেরও আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। গত বুধবার রহিমা বিবিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আব্বাস আলী/এআরএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।