অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েও দেশে ফিরে এসেছে ইরান নারী ফুটবল দল
এএফসি নারী এশিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষে অস্ট্রেলিয়াতেই আশ্রয় চেয়েছিল ইরানের বেশ কয়েকজন নারী ফুটবলার। তবে, সেই আশ্রয় চাওয়ার ঘটনার পরও অবশেষে দেশে ফিরে এসেছে ইরান নারী ফুটবল দল। ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, দলটি অস্ট্রেলিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে স্থলপথে নিজ দেশে প্রবেশ করেছে।
প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, খেলোয়াড়রা তুরস্ক থেকে বাসে করে সীমান্তে পৌঁছান এবং সেখানে কিছু সরকারি কর্মকর্তা তাদের স্বাগত জানান। তবে দলের সবাই ফেরেননি। দুই ফুটবলার- ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ ও আতেফেহ রামেজেনিসাদেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা বর্তমানে ব্রিসবেন রোর ক্লাবের সঙ্গে অনুশীলন করছেন।
জানা গেছে, আরও কয়েকজন খেলোয়াড় শুরুতে আশ্রয় নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দেশে ফেরার পথ বেছে নেন।
নারী এশিয়া কাপ খেলতে দলটি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল। টুর্নামেন্ট শুরুর কিছুদিন আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা করে। যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পুরো দলই উদ্বেগের মধ্যে ছিল। টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় কয়েকজন খেলোয়াড় নীরব থাকায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। অনেকেই এটিকে প্রতিবাদ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ কেউ একে শোকের বহিঃপ্রকাশ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন।
যদিও খেলোয়াড়রা নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেননি, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন।
টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দেশে ফেরার প্রশ্ন সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে দেশে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকেই। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানি প্রবাসী গোষ্ঠীগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান এবং আশ্রয়ের দাবি ওঠে।
তবে ইরানের প্রথম সহ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফ এসব শঙ্কা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘দেশ তার সন্তানদের সাদরে গ্রহণ করে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
সব মিলিয়ে, আশ্রয় চাওয়া ও নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ইরানের নারী ফুটবল দলের দেশে ফেরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, যারা অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেছেন তাদের ভবিষ্যৎ কী হয় এবং দেশে ফেরা খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি কেমন থাকে।
আইএইচএস/