টঙ্গীর বিস্ফোরণ তদন্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ে
টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েল কারখানার দুর্ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হচ্ছে। এছাড়াও বর্তমানে কর্মরত চারটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেয়ার মেয়াদ আরো সাত দিন বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার দিনই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে এ কমিটি আরো সাতদিনের সময় বৃদ্ধির আবেদন করে।
জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানান, দুর্ঘটনায় অধিকতর তদন্তর জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন তদন্ত কমিটি গঠিত হচ্ছে। তদন্ত কমিটিগুলির মেয়াদ আরো সাতদিন বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টে আরো অভিজ্ঞ লোক নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বড় ধরনের কমিটি করার কথা বলা হয়েছে।
সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দু’এক দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন হবে।
এদিকে ১৩তম দিনে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধসে যাওয়া ভবনের বর্জ্যগুলো অন্যত্র সরানো হচ্ছে।
টঙ্গীর বিসিক নগরীতে বিএনপির সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন ট্যাস্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এতে কারখানার বিশাল ভবনের অধিকাংশ ধসে বিশাল ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়। এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ জন আহত ও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ২৮ জন এবং ৬ জনের পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পরিচয় শনাক্তের জন্য অজ্ঞাত ৬টি মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অজ্ঞাত ৬ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশের সিআইডি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে নিখোঁজ ১১ জনের স্বজনদের মধ্যে ৯ জনের স্বজনরা বুধবার তাদের লালা ও রক্ত দিয়েছেন। বাকি দুইজনের স্বজনরা আগামী রোববার তাদের নমুনা দেবেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার মালিক সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হেসেনকে প্রধান আসামি করে টঙ্গী মডেল থানায় এ পর্যন্ত দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর কারখানা মালিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করেন নিহত শ্রমিক জুয়েলের বাবা আব্দুল কাদের। ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী বাদী হয়ে কারখানা মালিকসহ ১০ জনকে আসামি করে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। দু’টি মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মোঃ আমিনুল ইসলাম/এএম/পিআর