সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ : কর্মকর্তা গ্রেফতার


প্রকাশিত: ০৩:৩৯ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

বাগেরহাট সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) ও সিবিএ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খলিফাকে (৫০) গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন খলিফাকে দুদক কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই পর্যন্ত দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করলো দুদক। অন্য অভিযুক্তরা আত্মগোপনে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।

এর আগে গত ৭ আগস্ট রাতে একই অভিযোগে ওই ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক শেখ মুজিবর রহমানকে (৫৫) দুদক গ্রেফতার করে। শেখ মুজিবর রহমান বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের চাকশ্রী গ্রামের প্রয়াত শেখ হাসান আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে বাগেরহাট কারাগারে।

ব্যবস্থাপক শেখ মুজিবর রহমান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেখ মাহফিজুর রহমান বাবুকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করে। তবে ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) ও সিবিএ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খলিফা এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের (বাগেরহাট-খুলনা-সাতক্ষীরা) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) আবুল হাশেম কাজী মুঠোফোনে জাগো নিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট সোনালী ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) ও সিবিএ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খলিফাকে খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাংকেও অনিয়মিত ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট শহরের রেল রোডের সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক থাকা অবস্থায় শেখ মুজিবর রহমান ও তার ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেখ মাহফিজুর রহমান বাবু ও আরেক কর্মকর্তাসহ অন্তত ১২ জন ব্যাংক গ্রাহককে সঙ্গে নিয়ে পরস্পর যোগসাজশে ওই ব্যাংকের ১৫০ জন গ্রাহকের এসওডির (সিকিউর ওভার ড্রাফট) বিপরীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের হিসাব থেকে চার কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এই ঘটনায় ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের নতুন যোগদান করা ব্যবস্থাপক খান বাবলুর রহমান বাদী হয়ে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেখ মাহফিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করে বাগেরহাট মডেল থানায় অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আমি ওই মামলার তদন্ত শুরু করি।

দুদকের প্রাথমিক তদন্তে টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা ও ১২ জন গ্রাহকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ব্যাংকের পলাতক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেখ মাহফিজুর রহমান বাবু আত্মসাৎ করা ৩৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। এদের সবার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগপত্র দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অডিট নিরীক্ষাকালে সোনালী ব্যাংক বাগেরহাট প্রধান শাখার ওই অর্থ আত্মসাতের তথ্য ফাঁস হয়। এরপর ঘটনা তদন্তে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে।

এর মধ্যে ব্যাংকের পলাতক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেখ মাহফিজুর রহমান বাবু আত্মসাৎ করা ৩৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি দুদক।

শওকত আলী বাবু/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।