বেনাপোলে বিএসটিআই অফিস না থাকায় হয়রানিতে ব্যবসায়ীরা
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে বিএসটিআই এর কোনো অফিস না থাকায় আমদানিকারকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
যেসকল পণ্য বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে ভারতে রফতানি হয়ে থাকে তার মধ্যে টেস্টকৃত পণ্যের টেস্ট রিপোর্ট ভারতের সংশ্লিষ্ট ল্যাব হতে ৪/৫ দিনের মধ্যে পেট্রাপোল কাস্টমসে ই-মেইলে চলে আসলেও আমদানিকৃত পণ্যের বিএসটিআই টেস্ট রিপোর্ট পেতে প্রায় ৩ সপ্তাহ সময় লেগে যায়। কারণ তারা হাতে হাতে এ রিপোর্ট জমা দিয়ে থাকেন।
সম্প্রতি আমদানিকারক মেসার্স লরিয়েল বাংলাদেশ লিঃ ইন্ডিয়া থেকে ৭৯৭৪ কাটুন গার্নিয়ার ব্রান্ডের একটি পণ্য চালান আমদানি করেন। পণ্য চালানটি খালাসের জন্য বেনাপোল কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয় ২১ সেপ্টেম্বর। যার নম্বর সি- ৫৬৯৪১। পণ্য চালানটির কিছু আইটেম বিএসটিআই টেস্ট অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু বেনাপোলে বিএসটিআই এর কোনো অফিস না থাকার কারণে পণ্য চালানটি আটকে আছে বেনাপোল বন্দরে।
বেনাপোলে বিএসটিআই এর কোনো অফিস না থাকায় খুলনা থেকে তাদের খবর দিয়ে বেনাপোলে আনতে হয়। এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেটা ঢাকায় পাঠানো হয়। আবার একই কায়দায় ঢাকা থেকে পরীক্ষা করে রিপোর্ট পাঠানো হয় খুলনায়। সেখান থেকে বেনাপোলে নিয়ে আসা হয়।
এছাড়া খুলনা থেকে বিএসটিআই কর্মকর্তারা নিয়মিত বেনাপোল বন্দরে আসেন না। বিএসটিআই অফিসারকে পত্র মাধ্যমে জানানো হলে এবং গাড়ি পাঠালে তারা বেনাপোল বন্দরে এসে টেস্ট এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন বলে জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ২০১১ সালে সিদ্ধান্ত হয়, বেনাপোল স্থলবন্দরে বিএসটিআই এর স্থায়ী অফিস অনতিবিলম্বে স্থাপন করা প্রয়োজন। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত আজো বাস্তবায়ন হয়নি কোনো এক অদৃশ্য কারণে।
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের স্থলবন্দর সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরে বিএসটিআই এর কোনো স্থায়ী অফিস না থাকায় বিএসটিআই অফিসারকে পত্র মাধ্যমে জানানো হলে এবং গাড়ি পাঠালে তারা বেনাপোল বন্দরে এসে টেস্ট এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট দিতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লেগে যায়। রিপোর্ট নিতে অনেক সময় লেগে যাওযায় আমদানিকৃত পণ্যের ওয়্যার হাউজ ড্যামারেজ, পণ্যের গুণগত মান নষ্ট এবং ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ সুদ টানতে হিমসিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, খুলনা থেকে সপ্তাহের রবিবার, মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার বিএসটিআই কর্মকর্তারা যদি বেনাপোল বন্দরে এসে টেস্ট এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করতেন তাহলে আমদানিকারকাদের আমদানিকৃত মালামাল দ্রুত খালাস নিতে এবং পণ্যের অতিরিক্ত খরচ থেকে রেহাই পেত। এ সকল খরচ মূলত পরোক্ষভাবে ক্রেতা সাধারণকেই বহন করতে হয়।
তাই দেশের স্বার্থে অনতিবিলম্বে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে বিএসটিআই এর স্থায়ী অফিস স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
জামাল হোসেন/এফএ/পিআর