ফরিদগঞ্জে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাসারা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুদিনে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী গণহিস্টোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথম দিন প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর রোববার আবারো স্কুল চলাকালে একই ঘটনা ঘটলে চাঁদপুর সিভিল সার্জন ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানায়। পরে জরুরি মেডিকেল টিম গঠন করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবদিন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান রানা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম শিপন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ও থানার ওসি আবুল কালাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক যাদব চন্দ্র সাহা জানান, শনিবার সকালে স্কুলের শ্রেণি শিক্ষা চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সাগর, আনোয়ার, সাদিয়া, মুন্নী, ফাতেমা, তানিয়া, আমেনা, হুমায়রাসহ একে একে বিভিন্ন ক্লাসের প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তিনি চাঁদপুর সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেন।
সিভিল সার্জন আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে একে এক ধরনের মানসিক সমস্যা উল্লেখ করে খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি খাওয়াতে বলেন। পরে তারা স্থানীয় চিকিৎসকদের সহযোগিতায় ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাদের সুস্থ করে তোলেন। অবস্থা দেখে তিনি স্কুল বিরতির সময় শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের খবর দিয়ে তাদের কাছে শিক্ষার্থীদের তুলে দেন।
এদিকে রোববার সকালে পাঠদান শুরু হলে আবারো একইভাবে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এসময় বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ফলে তিনি দ্রুত ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। পরে ইউএনও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম শিপনকে মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেন।
ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আসাদুজ্জামান জুয়েলকে প্রধান করে মেডিকেল টিম গঠন করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
এদিকে বাসারা উচ্চ বিদ্যালয়ে একের পর এক শিক্ষার্থী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জিনের আছরের গুজবে আশপাশের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম শিপন জানান, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেন। একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়াকে সাইকোলজিক্যাল সমস্যা অভিহিত করে তিনি এই অবস্থাকে mass psychogenic illness রোগের লক্ষণ বলে জানান। বর্তমানে সব শিক্ষার্থী সুস্থ। আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই।
এআরএ/এবিএস