জেল সুপার ও প্রধান কারারক্ষীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৬

পরিবহন শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগে শেরপুরের জেল সুপার মজিবুর রহমান ও প্রধান কারারক্ষী বাবুল মিয়াসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পরিবহন শ্রমিক বিশু ড্রাইভারের স্ত্রী শান্তি বেগম বাদী হয়ে মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলাটি করেন।

শুনানি শেষে শেরপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাইফুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে ওই পরিবহন শ্রমিকের সনদপত্র সংগ্রহ সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শেরপুর সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে জামিন পাওয়া আসামিদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে প্রধান কারারক্ষী বাবুল মিয়া, জাফর আলী ও সেলিম মোল্লা প্রকাশ্যে নগদ টাকা হাতিয়ে নেন। এসময় শ্রমিক নেতা আলমগীর হোসেন বিশু ড্রাইভারসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করলে কারারক্ষীরা তাদের কারা অঙ্গন থেকে বের করে দেন। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশু ড্রাইভারকে জেল সুপার কারাগারে ডেকে পাঠান।

প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশের পরপরই প্রধান কারারক্ষী বাবুল, জাফর ও সেলিমসহ একদল কারারক্ষী বিশু ড্রাইভারকে দা, লোহার পাইপ ও রডসহ লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। এসময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে থানা পুলিশকে খবর দিয়ে কারারক্ষীরা আহত শ্রমিক নেতা বিশু ড্রাইভারকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

পুলিশ বিশু ড্রাইভারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর পাঁচদিন যাবত সেখানেই চিকিৎসা করা হয়।

মামলার সত্যতা স্বীকার করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. প্রদীপ দে কৃষ্ণ বলেন, ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হলে কারাগারের অভ্যন্তরে চলা দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। এতে অভিযোগকারী ন্যায্যবিচার পাবে।

এ ব্যাপারে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। আদালত থেকে নির্দেশনা পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে শেরপুর জেলা কারাগারে হাজতি আসামিদের উৎকোচ দিতে হয়। না দিলে তাদের ওপর অমানসিক নির্যাতন করা হয় বলে মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাইফুর রহমানের কাছে অভিযোগ করেন কয়েকজন হাজতি। সোমবার দুপুরে  প্রকাশ্য আদালতে তারা এমন অভিযোগ করেন।

সিনিয়র এপিপি অ্যাড. মজদুল হক মিনু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার শুনানি শেষে মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাইফুর রহমান এজলাস ত্যাগ করার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত পৃথক মামলার আসামি মিলন মিয়া (২২), নয়ন মিয়া (২৫) ও মোজাম্মেল হক রাজা (২৩) আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাকে (সিজেএম) কিছু বলতে চান। আদালত তাদের কথা বলার অনুমতি দিলে তারা অভিযোগ করেন, কারাগারে তাদের নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়।

মাসোহারা দিতে অস্বীকার করলে বা বিলম্ব হলেই তাদের ওপর চলে অমানসিক নির্যাতন। এছাড়া সেলে থাকা আসামিদের এককালে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকাসহ প্রতি মাসে এক হাজার করে টাকা দিতে হয়। এসময় এক হাজতি আসামি বলেন, আজ তাদের মাসোহারা নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তা না হলে সন্ধ্যার পরই নির্যাতন চালানো হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। হাজতিদের অভিযোগ করার সময় সরকারি আইন কর্মকর্তা, আইনজীবী ও পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন আদালতে উপস্থিত জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, হাজতিরা অভিযোগ করে আদালতের কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়লে বিচারক বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন।

এ ব্যাপারে জেল সুপার মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। কয়েকদিন আগে সন্ত্রাসী বিশু ড্রাইভারের নেতৃত্বে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টিকে বিতর্কিত করতে স্থানীয় এক আইনজীবীসহ কতিপয় লোক এসব করাচ্ছে।

হাকিম বাবুল/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।