আসছে বন্যহাতি সুরক্ষায় অ্যাকশন প্ল্যান


প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৬

বন্যহাতি সুরক্ষায় শিগগিরই আসছে অ্যাকশন প্ল্যান। বাংলাদেশে এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন। এরই অংশ হিসেবে দেশে ইতোমধ্যে হাতি দিবস উদযাপন ও সেফটি ট্রেনিংসহ বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এমন তথ্য জানালেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর আব্দুল মোতালেব।

সোমবার নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে শেরপুর ও জামালপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বনবিভাগ ও আইইউসিএন গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি একথা বলেন।

Sherpur

তিনি জানান, হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ঝিনাইগাতীর তাওয়াকুচা ও শ্রীবরদীর হারিয়াকোনাতে ১০০ হেক্টর জমিতে হাতির খাদ্যোপযোগী বৃক্ষরোপণ, ২৭টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন, ১৬টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, হাতির সংখ্যা গণনা, হাতি চলাচলের রাস্তা শনাক্তকরণ এবং হাতি সংরক্ষণে আন্তঃদেশীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
 
এদিন শেরপুরের সীমান্তবর্তী জনপদে প্রতি দলে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবী সদস্য নিয়ে আইইউসিএনের গঠন করা ২৩টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) বনবিভাগের কাছে আনুষ্ঠানকভাবে হস্তান্তর করা হয়। হাতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও হাতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে শেরপুরের সীমান্তবর্তী জনপদে এসব এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের হাতি প্রবন এলাকাগুলোতে মানুষ-হাতি সংঘাত নিরসনকল্পে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএন এসব এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করেছে।

Sherpur

এ উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম। অতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সার্কেলের বন সংরক্ষক অবনি ভূষণ ঠাকুর, ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ রায়, আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর সাইদ মো. ইরফানুল্লাহ, নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান, শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাছরিন প্রমুখ। পরে ইআরটি সদস্যদের অংশগ্রহণে হাতি তাড়ানোর কৌশল সম্পর্কে এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর সাইদ মো. ইরফানুল্লাহ বলেন, সারাদেশে ৩০টি ইআরটি টিম রয়েছে। তন্মধ্যে শেরপুরে ২৩টি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ৭টি টিম রয়েছে। এসব টিমে ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবি সদস্য হাতি ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে এটি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম ও বৃহত্তম জনমুখী উদ্যোগ। বিগত এক বছরে এই টিমের সদস্যরা এক হাজার ১২৮ বার পাহারা দিয়েছে, ৪৭৭ বার তাৎক্ষণিক সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবেল করেছে, ৩৪১টি গ্রাম্য সভার আয়োজন করেছে, ৩টি অন্য বন্যপ্রাণি উদ্ধার করেছে ও ৩৩ বার বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
 
হাকিম বাবুল/এমএএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।