রমেজা বেগম কি পাবে বয়স্ক ভাতা


প্রকাশিত: ০২:৪৭ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৬

রমেজা বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ১০৭ বছর। স্থানীয়রা বলছেন তার বয়স ১২৫ বছর এবং আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নে তার সমবয়সী আর কেউ নেই।

দুই দিনমজুর সন্তানের ঘরে অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে চলতে এই বৃদ্ধার জীবন। অথচ আজো একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড জোটেনি তার কপালে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান-মেম্বারের সুদৃষ্টি না থাকায় এতো দিনেও কার্ড পাননি তিনি।

রমেজা বেগমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের হাজারবিঘী গ্রামে। বয়সের ভারে এখন আর স্বাভাবিক চলাফেরা ও স্পষ্ট করে কথা বলতে পারেন না তিনি। অন্যরা তার কথা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও পুত্রবধূ রাজিয়া বেগম কিছুটা বুঝতে পারেন।
 
তার মাধ্যমে রমেজা বেগম জানান, আনুমানিক ১৮৯৫ সালে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। (যদিও তার জাতীয় পরিচয়পত্রে ১৯১০ সালে জন্মগ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে)। তার বাবার নাম মৃত হাসিমুদ্দিন। মার নাম মৃত ফুলবত বেগম।

Chapainawabganj

১০/১২ বছর বয়সে হাজারবিঘী গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের সঙ্গে রমেজার বিয়ে হয়। দুই ছেলে ও এক কন্যা রেখে তার স্বামী আব্দুল হাকিম আনুমানিক ১৯৬৩ সালে মারা যান।

তার পুত্রবধূ জানান, গত পাঁচ বছর থেকে তিনি ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। প্রিয় খাবার রুটি ও তেলের পিঠা। শাশুড়ির সেবা করতে পেরে রাজিয়া বেগম ভীষণ খুশি।

তিনি জানান, রমেজা বেগমের একমাত্র মেয়ে ছিল প্রতিবন্ধী। সে মারা গেছে। বড় ছেলে সাহেবজান দিনমজুর। সে আলাদা বাড়িতে থাকে। ছোট ছেলে মোখলেছুর রহমান রাজিয়ার স্বামী ছোটখাটো ব্যবসা করেন। ছোট ছেলের পরিবারে রয়েছেন তাদের মা রমেজা বেগম।

রমেজা বেগমের ছেলে মোখলেছুর রহমান জানান, স্থানীয় কোনো মেম্বার বা চেয়ারম্যান তার মায়ের খোঁজখবর নেননি।

ওই এলাকার দোকানদার নজরুল ইসলাম ও শিক্ষক তোসির উদ্দিন জানান, শুধু শাহাবাজপুরেই নয়, অত্র এলাকায় রমেজা বেগমের সমবয়সী আর কেউ নেই।

তারা আরো জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রমেজা বেগমের বয়স্ক ভাতার কার্ড হওয়া উচিত ছিল কিন্তু মেম্বার চেয়ারম্যানদের গাফিলতির কারণে তা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
 
এ ব্যাপারে শাহাবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। এ বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার জানান, ঘটনাটি তারও জানা ছিল না। স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যান তালিকাভুক্ত করে না পাঠায় বয়স্ক ভাতার কার্ড হয়নি। তবে জরুরি ভিত্তিতে তার বয়স্ক ভাতার কার্ডসহ তাকে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোহাঃ আব্দুল­াহ/ এমএএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।