জুমার খুতবা

মুসলমানদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ১৩ মার্চ ২০২৬
মুসলমানদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব ছবি: ফ্রিপিক

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মুহাম্মদের (সা.) উম্মতভুক্ত করেছেন, যিনি সকল নবী ও রাসুলদের সরদার। আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যেমন প্রশংসাকারীরা করে থাকেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি আসমান ও জমিনের রক্ষক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তার রাসুল; যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যিনি হেদায়াতপ্রাপ্তদের জন্য সুসংবাদদাতা এবং পথভ্রষ্টদের জন্য সতর্ককারী। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবায়ে কেরামদের ওপর অনন্তকাল রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক; যারা কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের (মুমিনদের) মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন।

হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদকে (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন, তিনি তাদের গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং নিজের জন্য যা পছন্দ করতেন, তাদের জন্যও তা-ই পছন্দ করতেন। হে মুসলিমগণ! আমাদের ওপর কর্তব্য হলো নবী করীমের (সা.) আদর্শ অনুসরণ করা। তাই আমাদের ইমান পূর্ণ করার জন্য আমরা আমাদের মুমিন ভাইদের ভালোবাসবো এবং তাদের জন্য তা-ই পছন্দ করবো যা নিজেদের জন্য পছন্দ করি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা নিজের জন্য পছন্দ করে।’

মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম হলো সালামের প্রসার ঘটানো। যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ততক্ষণ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না মুমিন হও, আর ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।’

ভালোবাসা বৃদ্ধির আরেকটি মাধ্যম হলো একে অপরকে উপহার দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, তবে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেছেন, নিশ্চয়ই উপহার অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়।’

পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির আরেকটি উপায় হলো প্রতিশোধ না নেওয়া এবং মন্দের উত্তর ভালো দিয়ে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মন্দের মোকাবিলা করো যা উত্তম তা দিয়ে। ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে। আর এ গুণের অধিকারী তারাই হয় যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং এ গুণের অধিকারী তারাই হয় যারা মহা ভাগ্যবান।’

রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিশোধ নেওয়া থেকে অনেক দূরে ছিলেন। তবে যখন আল্লাহর বিধান বা মর্যাদা লঙ্ঘিত হতো, তখন তিনি আল্লাহর জন্য কঠোর হতেন, ক্রুদ্ধ হতেন। তিনি এ ব্যাপারে আপন-পর বা নিকট-দূরের মধ্যে পার্থক্য করতেন না। তিনি অপরাধীর ওপর দণ্ডবিধি কায়েম করতেন এবং আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কারো সুপারিশ গ্রহণ করতেন না।

ভালোবাসা অটুট রাখার আরেকটি মাধ্যম হলো দোয়া করা, যাতে অন্তর থেকে হিংসা দূর হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন এভাবে দোয়া করতে, ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এবং আমাদের সেইসব ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ইমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।’

আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা প্রতিশোধ নাও, তবে ঠিক ততটুকুই নাও যতটুকু তোমাদের ওপর করা হয়েছে। তবে যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, তবে ধৈর্যশীলদের জন্য সেটিই উত্তম।’

আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের জন্য কোরআনুল কারীমের মাধ্যমে বরকত দান করুন, তাঁর আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি অতি দয়ালু, মহানুভব, মালিক ও পরম দাতা।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।