চাচার পরিচয়পত্র নকল করে বিয়ে : ভাতিজা আটক


প্রকাশিত: ০৮:৪৩ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৬

নীলফামারীর ডিমলায় চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিয়ে করার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাতিজা মনোয়ার হোসেনকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। বালাপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট থেকে মনোয়ারকে আটক করা হয়।

আটক মনোয়ার উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরখাতা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি চাচা রফিকুল ইসলামের কাগজপত্র জাল করে একটি ইন্সুরেন্স কোম্পনিতে চাকরিও করে আসছিলেন।

জানা গেছে, মনোয়ার হোসেন পপুলার ইন্সুরেন্স কোম্পানির নোয়াখালি সদরে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সেখানে চাকরি করেন রফিকুল ইসলাম নামে। মনোয়ার হোসেন সুকৌশলে রফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্রের (৭৩১১২১৩১৭১১২৬) ছবি পরিবর্তন করে এ জালিয়াতি করেন।

রফিকুল ইসলাম দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের মহিরউদ্দিনের ছেলে। মনোয়ার হোসেন বালাপাড়া ইউনিয়নের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে (৫৭১৪৭১০৪২২৮৪০) ঠিকানা গ্রাম-নিশিপুর ডাকঘর- বামুন্দী, উপজেলা-গাংনী ও জেলা মেহেরপুর দেখানো হয়েছে।

এদিকে মনোয়ার হোসেন ওরফে রফিকুল সেখানে চাকরির সুবাধে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বৈদ্যবাড়ী গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী খোদেজা বেগমকে রফিকুল ইসলাম নামে ১ বছর আগে ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ে পর মনোয়ার চাকরি ছেড়ে পালিয়ে আসেন।

বিয়ের পর খোদেজাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের কারণে ডিমলা থানায় খোদেজা বেগম অভিযোগ দেয় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে গেলে মনোয়ারের জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। রফিকুল ইসলাম ঘটনাটি জানতে পেয়ে বুধবার রাতে ডিমলা থানার অভিযোগ করেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতারক মনোয়ার আমার প্রতিবেশী ভাতিজা। সে জাতীয় পরিচয়পত্রে আমার ছবি পরিবর্তন করে ও আমার সনদপত্র জালিয়াতি করে নোয়াখালিতে চাকরির সুবাধে খোদেজা বেগমকে বিয়ে করে। মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মনোয়ারের জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ও আসল পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে।

মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমার বয়স বেশি থাকার কারণে প্রতিবেশী চাচা রফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি পরিবর্তন করে বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করি। সেখানে চাকরির সুবাধে প্রেমের সূত্রে খোদেজাকে বিয়ে করি। বিষয়টি অপরাধ কিনা জানতে চাইলে বলে এটা আমাদের পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি।

ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতারক মনোয়ারকে আটক করা হয়েছে। স্ত্রী খোদেজা বেগম ও চাচা রফিকুল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।

জাহেদুল ইসলাম/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।