মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি যেন চাঁদাবাজির ঘাট!


প্রকাশিত: ০৩:৪৮ এএম, ০৮ অক্টোবর ২০১৬

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়াার মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এখন চাঁদাবাজির ঘাটে পরিণত হয়েছে। কাগজপত্র যাছাই, অবৈধ পার্কিং ও চলাচলসহ নানা কারণে টাকা আদায় করছে ফাঁড়ি পুলিশ। এতে গাড়ির মালিক-চালক, মোটরযান ব্যবসায়ী সবার ত্রাহি অবস্থা। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ করেছেন।

সূত্র মতে, মহাসড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে চকরিয়া-মালুমঘাট-খুটাখালী-ঈদগাঁও-কালিরছরাসহ বিশাল এলাকা দেখভাল করছেন মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ। অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ফাঁড়ির সার্জেন্ট আশিকুর রহমান মহাসড়কের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালায় দিনের পৃথক সময়ে চেকপোস্ট বসান।

সেখানেই দূরপাল্লার বাস ছাড়া আন্তঃসড়কে চলাচল করা মাইক্রো, কার, জিপ, ডাম্পার, ট্রাক, মিনিট্রাক, সিএনজি, টমটমসহ সব ধরনের যানবাহন আটকিয়ে নানা অজুহাতে টাকা আদায় করা হয়। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তাদের নির্ধারিত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই জরিমানা কিংবা মামলার খড়গ নামছে মালিক-চালক সবার কপালে। বিশেষ করে মাসের মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে এ মাত্রা তীব্র হয়।

অভিযোগে রয়েছে, সম্প্রতি প্রাইভেট কার চালক নুরুল হক (ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৯১২৭) মালিকের পরিবারের সদস্যদের মালুমঘাট খ্রিস্টান হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তার গাড়িটি থামিয়ে কাগজপত্র দেখা হয়। তাতে কোনো হেরফের না পেয়ে ভাড়ায় চালানোর অভিযোগে জরিমানা করা হয়।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডাম্পার চালক জহির আহমদকে মালুমঘাট স্টেশনে আটকিয়ে ১৫ হাজার টাকা, পর্যটকবাহী চেয়ারকোচ চালক মীর আহমদকে খুটাখালী স্টেশনে থামিয়ে ১০ হাজার টাকা, কভার্ডভ্যান চালক মনজুরকে খুটাখালী-নয়াপাড়া ব্রিজ এলাকায় পার্কিংয়ের অপরাধে ২০ হাজার টাকা, পিকআপ চালক মনজুর আলমকে ডুলাহাজারা স্টেশন থেকে লাকড়ি ভর্তি গাড়ি আটকিয়ে ৫ হাজার টাকা আদায় করে।

এছাড়া ডাম্পার চালক নূর আহমদের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা, টমটম চালক শাহাব উদ্দিনকে মালুমঘাট সড়কে আটকিয়ে ৫ হাজার টাকা, মালুমঘাট খ্রিস্টান হাসপাতালে ডেলিভারি রোগী আনা সিএনজি চালক শাহাব উদ্দিনকে আটকিয়ে ৭ হাজার টাকা আদায় করে হাইওয়ে পুলিশ। শুধু তারা নয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে মাসের শেষে অসংখ্য যনবাহনকে বিভিন্নভাবে জরিমানা করে লাখ লাখ টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ২৩ জুলাই সার্জেন্ট আশিকুর রহমান মালুমঘাট ফাঁড়িতে যোগদানের পর থেকে এ নিয়মটি চালু হয়। তার এ কর্মকাণ্ডে পুরো হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে দাবি ভূক্তভোগীদের।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা মতে, ত্রিহুইলার সিএনজি, টমটম মহাসড়কে চালানো নিষেধ। কিন্তু কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় আসতে গেলে অবশ্যই মহাসড়ক মাড়াতে হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ।

পটিয়ার পর কক্সবাজার বাদে মাঝখানের বিশাল এলাকায় কোথাও সিএনজি স্টেশন নেই। রাত ১২ থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত গ্যাস নিতে সিএনজিগুলো মাহাসড়কে আসতে পারবে এমন নির্দেশনা থাকলেও সে সময়েও গ্যাস নিয়ে ফেরা গাড়িগুলোও হয়রানি থেকে বাদ যাচ্ছে না।  নির্দিষ্ট গ্যারেজে চার্জিং করে উপসড়কগুলোতে যেতে গিয়ে হাইওয়ে পুলিশের ব্যারিকেডে পড়ছে টমটম।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, কনস্টেবল বাকীবিল্লাহ’র সহায়তায় সার্জেন্ট আশিক গাড়িপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে বখরা আদায় করে আসছেন। অনেক সময় গ্যারেজ থেকেও টমটম নিয়ে এসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।

অপর একটি সূত্র জানায়, মামলা কিংবা জরিমানায় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও বিপরীতে স্লিপ দিয়ে সরকারি রাজস্ব আদায় দেখানো হয়  ২’শ  থেকে ৫’শ টাকা। এরপরও যানবাহন সংশ্লিষ্টদের কোনো উচ্চবাচ্য করার সুযোগ থাকে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সার্জেন্ট আশিকুর রহমান বলেন, যত মামলা কিংবা জরিমানা আদায় হয়েছে তার বিপরীতে স্লিপ দেয়া আছে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয় দাবি করে হাইওয়ে পুলিশের এএসপি গোলাম মুহাম্মদের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন।

তবে এএসপি গোলাম মুহাম্মদের মুঠোফোনে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।  বিষয়টি সম্পর্কে আলোকপাত করা হলে তাদের অথরিটি কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের এসপি রেজাউল করিম বলেন, খোঁজ নিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।