ঝালকাঠির অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ হয়নি
গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ২ জুলাই রাতে জঙ্গি হামলায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপথগামী কিছু শিক্ষার্থীদের। এরপরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে বলা হয় কলেজ ও মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি এক সপ্তাহের বেশি হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।
কিন্তু ঝালকাঠি জেলায় কোনো কলেজ ও মাদরাসা থেকে এ ধরনের তালিকা বা অনুপস্থিতির ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়নি।
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর ৯ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৫৩ শিক্ষার্থী ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত, মিসিং ও নিরুদ্দেশ শিক্ষার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ঝালকাঠি জেলার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির তালিকা এখনও প্রকাশ করতে পারেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, এখন আর জঙ্গি নেই। তাছাড়াও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক।
রাজাপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম বারী বলেন, রাজাপুর ডিগ্রি কলেজে জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে। প্রবীন শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে (রাজু) এ কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে। তার তত্ত্বাবধানে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির একটি তালিকা করা হয়েছে। পারিবারিকভাবে খোঁজ খবর নিয়ে তার যাচাই-বাছাই চলছে।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পারিবারিক প্রয়োজনে তারা কলেজে নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না। অনেকে আবার এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন স্থানে চাকরি নিয়েছে, পরীক্ষার সময় এসে অংশ নেয়। তালিকাটি যাচাই না করে প্রশাসনের কাছে দিয়ে একটি ছাত্রের ভবিষ্যত ধ্বংস করতে পারি না।
ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আসার পর ছাত্রীদের উপবৃত্তির মৌসুম চলে আসে। তাই ছাত্রীদের ক্লাসে উপস্থিতি প্রায় শতভাগ অর্জিত হয়। উপবৃত্তি শেষ হলে চলে আসে পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় শতভাগ ছাত্রীই উপস্থিত থাকে। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ক্লাসে উপস্থিতির হার এমনিতেই বেশি।
ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম মুজিবুর রহমান বলেন, কলেজের শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এছাড়াও ১২/১৫ জন করে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ তৈরি করে একেকজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। কোনো ছেলে কয়দিন ক্লাস করে, টানা ৩ দিন অনুপস্থিত থাকলেই পরিবারের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগাযোগ করে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। সঙ্গত কারণেই কোনো তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি।
ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে সব সময়ই শতভাগ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকে। অনুপস্থিত কেউ না থাকায় কোনো তালিকা করা হয়নি।
ঝালকাঠি পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক শেখ মো. হান্নান জানান, আমাদের কাছে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তালিকা এখন পর্যন্ত আসে নি।
এসএস/এবিএস