দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্রিকেটে যশোর জয়ী


প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

বিশ্ব সাদাছড়ি দিবসে যশোরে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। যাতে অংশ গ্রহণ করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্রিকেটাররা দেখালেন, তারাও সাকিব, তামিমের মত মাঠ কাঁপাতে পারেন। এই প্রীতি ম্যাচে যশোর ৩৯ রানে রাজশাহীকে হারিয়েছে। শনিবার যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাবের উদ্যোগে যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজন করা হয় এ প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ।

ক্রিকেটারদের কেউ পুরোপুরি চোখের আলো হারিয়েছেন। আবার কারো কারো চোখের আলো নিভু নিভু। তবুও দমে যাননি তারা। চোখের আলো না থাকলে যে পিছিয়ে থাকতে হবে তা তারা বিশ্বাস করেন না। সেটিই প্রমাণ করেছে যশোর ও রাজশাহীর ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যরা। তাদের খেলা দারুণ উপভোগ করেছেন যশোরের দর্শকরা। তাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির বর্হিপ্রকাশ দেখে মানুষ অবাক হয়েছেন।

সকালে খেলার উদ্বোধন করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবীর, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ টুকুন। দুপুরে খেলা শেষে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রীতি ম্যাচে যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাবের মুখোমুখি হয় রাজশাহী ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাব। যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাব প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারের ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে রাজশাহী ব্লাইন্ড ক্লাব ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান সংগ্রহ করে। প্রীতি ম্যাচে রাজশাহীকে হারিয়ে যশোর বিজয়ী হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন) ও যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি ফজলে রাব্বী মোপাসা বলেন, ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর  ১৯জন খেলোয়াড় নিয়ে যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাবের যাত্রা শুরু। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতে বেঙ্গালুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দল প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করে। এই দলে যশোর থেকে মুনীর ও শিহাব সুযোগ পায়। তারা জাতীয় দলের একাদশে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। বর্তমানে ক্লাবটিতে ৩৭জন ক্রিকেটার রয়েছে। এদের মধ্যে বি-১ ক্যাটাগরি (পুরো অন্ধ) ২৩জন,  বি-২ ক্যাটাগরির ৭জন (৭ মিটার দূরত্বে দেখতে পারে) ও বি-৩ ক্যাটাগরির ৭জন (১৫ মিটার দূরত্বে দেখতে পারে) রয়েছে। ২০১৫ সালে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে প্রত্যাশা পলিমার টি-টোয়েন্টি জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে যশোর রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

blind

ফজলে রাব্বী মোপাসা আরও জানান, ব্লাইন্ড ক্রিকেটে ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ৪ জন বি-১ ক্যাটাগরির অর্থাৎ তারা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তিহীন, কিছুই দেখতে পায় না। বি-২ ক্যাটাগরির ৩ জন। এরা ৭ মিটার পর্যন্ত ক্ষণস্থায়ীভাবে কিছুই দেখতে পারে না। আর বি-৩ এ ৪ জন খেলোয়াড়। তারা ১৫ মিটার পর্যন্ত স্থায়ীভাবে দেখতে পারেন। সাধারণ বি-৩ এর খেলোয়াড়রা থার্ডম্যান এ ফিল্ডিং করে থাকে। উইকেট কিপিংয়ে বি-২/বি-৩ খেলোয়াড়দের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন। সব ক্যাটাগরির খেলোয়াড় বোলিং করতে পারেন। বি-১ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় ব্যাটিং করলে তারা ৪ মারলে ৮ রান যোগ হয়। এটি আন্তর্জাতিক ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের আইন।

তিনি আরও বলেন, ১৯২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার ব্লাইন্ড ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশে শুভ সূচনা হয় ২০০০ সালে। এ বছরের ৬ নভেম্বর ৭দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ নিয়ে ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারতের বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে। এরপর ২০০৮ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিল (বিবিসিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়। এরমাধ্যমে দেশে ১৪টি ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যশোর ও রাজশাহী এর মধ্যে অন্যতম। এ দুটি দলের খেলোয়াড়রা জাতীয় ও টি-২০ বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে।

মিলন রহমান/আইএইচএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।