টাকার অভাবে পরীক্ষা দিতে পারলো না ১৬ শিক্ষার্থী
পরীক্ষার ফি না দেওয়ায় ১৬ শিক্ষার্থীকে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আরাজী শিংপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
রোববার নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এসব শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে প্রধান শিক্ষক সকল শিক্ষার্থীকে ডেকে বলেন, যাদের মাসিক বেতন ও পরীক্ষার ফি বাকি আছে তাদের নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। এতে ওই ১৬ শিক্ষার্থীর বেতন বকেয়া থাকায় পরীক্ষার রুম থেকে তাদের বের করে দেন প্রধান শিক্ষক।
শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করে এবং টাকা পরিশোধের জন্য সময় চায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের টাকা পরিশোধের সময় না দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন।
ঘটনার শিকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল, রতন, গৌরব, অমল পলাশ, অন্তরা, লাকী বলে, ২০১৭ সালে আরাজী শিংপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আমরা ৪৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবো। দু-একজন বাদে সকলে পরীক্ষার ফি দিয়েছি। তবে আমাদের ৪-৫ মাস করে মাসিক বেতন বাকি আছে। তাই স্যার আমাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেননি।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী রতনের বাবা ধঞ্জয় বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছি। ছেলের কয়েক মাসের বেতন দিতে পারি নাই তার জন্য আমার ছেলেকে পরীক্ষা দিতে দিলো না স্যার। এখন আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। তারা হয়তো এসএসসি পরীক্ষাও দিতে পারবে না।
আরেক শিক্ষার্থী আশরাফুলের বাবা কাশেম বলেন, সরকার যদি শিক্ষার্থীদের বেতন নেওয়া বন্ধ করে তাহলে আমরা গরিব মানুষ উপকৃত হব।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষার্থীরা বেতন না দিলে বিদ্যালয় কীভাবে চালাবো। আগে নোটিশ দেয়েছি তাই যে সকল শিক্ষার্থী বেতন পরিশোধ করেনি তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেইনি।
সালান্দর ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুব হোসেন মুকুল বলেন, প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থেকে বিরত না রেখে পরীক্ষার পর টাকা পরিশোধের সময় দেওয়া।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, বিষয়টি নিয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করছি।
রবিউল এহসান রিপন/এফএ/এবিএস