বরগুনায় নীরবে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা
দীর্ঘ ১৬ বছর পর পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে জেলা পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ নির্বাচনের কথা জানিয়েছে কমিশন।
দলীয়ভাবে উপজেলা, ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচনের পর এবার নির্দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে বাড়তি আমেজ যুক্ত হয়েছে বরগুনায়।
৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পৌরসভা নির্বাচন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নির্দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার সরকারের একটি সুযোগ এসেছে বলে মনে করছে বরগুনার সচেতন মহল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলায় একজন জেলা পরিষদ প্রশাসকের পাশাপাশি ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তৃণমূলের অন্য সব নির্বাচনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন শুধু জেলায় অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।
আর সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্যপদে প্রার্থীদের ভোট দিতে পারবেন তাদের নির্বাচন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটার এবং ২৫ বছর বয়সী যেকোনো নাগরিক জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারবেন। তবে কোনো প্রার্থী ভোট দিতে পারবেন না। অন্যদিকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোটার হলেও প্রার্থী হতে পারবেন না।
এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে চায়ের দোকানেও চলছে বিচার বিশ্লেষণ। কোন দল থেকে কে পাবেন সমর্থন? এদের মধ্যে কে হবেন আগামীর জেলা পরিষদ প্রশাসক এসব নিয়ে এখন চলছে আলোচনার ঝড়।
অন্যদিকে সচেতন মহল মনে করে, দলীয় সমর্থনের ওপরই নির্ভর করছে এসব প্রার্থীর জয়-পরাজয়। এছাড়াও বরগুনায় আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করেন তারা।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে বরগুনায় এখন পর্যন্ত তিনজন প্রার্থী তাদের প্রচারণা শুরু করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বরগুনা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবির।
বরগুনা-২ আসন থেকে তিনবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত এমপি মরহুম মো. নিজাম উদ্দীনের স্ত্রী জাকিয়া এলিচ ও ২০০২ সালে তৎকালীন বরগুনা-২ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ গোলাম সরোয়ার ফোরকান।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্দলীয় নির্বাচন হলেও এই নির্বাচনে দলের সমর্থন থাকবে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতি।
এছাড়াও জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশ ভোটারই আওয়ামী লীগেরে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর এই মনোনয়ন বোর্ডের অন্যতম একজন ছিলেন আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবির। আর এ কারণেই বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে সবার থেকে এগিয়ে আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবির।
তৎকালীন বরগুনা-২ আসন থেকে ১৯৭৩, ১৯৭৭ ও ১৯৮৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত মরহুম মো. নিজাম উদ্দীনের স্ত্রী জাকিয়া এলিচও রয়েছেন বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে।
পারিবারিকভাবেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরেকজন হলেন তৎকালীন বরগুনা-২ আসন থেকে ২০০২ সালের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাম সরোয়ার ফোরকান।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। এরপর উপ-নির্বাচনে এই আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় গোলাম সরোয়ার ফোরকানকে। যদিও তিনি উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনটি প্রণীত হয়। এর মাধ্যমে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেয়ার বিধান ছিল। পরে আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে। পাঁচ বছর মেয়াদি বরগুনা জেলা পরিষদে বর্তমানে অনির্বাচিত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবির।
আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু জাগো নিউজকে জানান, কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরই তারা কাজ শুরু করবেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মোল্লা জাগো নিউজকে জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিও পিছিয়ে নেই। এখন শুধু কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আর সিদ্ধান্তের ব্যাপার মাত্র।
এসএস/পিআর