অবশেষে মুক্ত হলো নলডাঙার ১২৫ পরিবার
অবশেষে প্রশাসন, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে ৩৪ দিন পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেল নাটোরের নলডাঙা উপজেলার বাশিলা গ্রামের ১২৫ পরিবার।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করতে বাশিলা গ্রামে ছুটে যান নাটোর প্রেসক্লাবের ১৩ জন সাংবাদিক। এর পরই জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বাশিলা গ্রামে দিনভর মিটিং শেষে রায় আসে অবরুদ্ধ গ্রামবাসীর পক্ষে। ৩৪ দিন প্রতিপক্ষ দ্বারা অবরুদ্ধ থাকার পর বাশিলা গ্রামবাসীর কপালে মিলল মুক্তি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মাধবনগর ইউনিয়নের বাশিলা গ্রামের সঙ্গে পিপরুল ইউনিয়নের বিলজোয়ানী গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর থেকেই বাশিলা গ্রামের ১২৫ পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে বিলজোয়ানী গ্রামের যুবলীগ নেতা শাহ জালালের সমর্থকরা। ফলে নাটোরের নলডাঙার বাশিলা পূর্ব পাড়ার অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যদের চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কাজে বাড়ির বাইরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। দফায় দফায় হামলায় আহত হন কয়েকজন।
শনিবার বিষয়টি সরেজমিনে জানতে ১৩ জন সাংবাদিকের একটি দল ঘটনাস্থল বাশিলা পূর্ব পাড়ায় যায়। এর আগেই ঘটনাস্থলে যান ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এলাকাবাসী চেয়ারম্যানের সামনেই তার গাফিলতির অভিযোগ আনেন। চেয়ারম্যান বলেন, তিনি সাধ্যমত চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সমাধান করতে পারেননি।
এরপর নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সাংবাদিকদের সামনেই তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। দুই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে সালিশি বৈঠক করেন।
শনিবার দিনভর সালিশি বৈঠক শেষে বিষয়টি মীমাংসা হয়। তৈরি করা হয় একটি খসড়া সালিশনামা ও একটি কমিটি। ১৫ সদস্যের ওই কমিটি আগামী মঙ্গলবার বিচারকার্যের চূড়ান্ত আপসনামা স্বাক্ষর করে উভয় পক্ষ ও প্রশাসনকে প্রদান করবে। সালিশ-বৈঠকের পর উভয় পক্ষকে কোলাকুলি করানো হয় ও অবরোধমুক্ত করে দেয়া হয়।
এসময় বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকম আনোয়ার হোসেন, নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকার, ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই, নলডাঙা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল, পিপরুল ইউপি চেয়ারম্যান কলিমুদ্দিন, মাধবনগর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ আলী দেওয়ানসহ উপস্থিত সাংবাদিকগণ, উভয়গ্রামের প্রধানবর্গ, দুই পক্ষের উসমান আলী ও শাহজালাল দেওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে টানা ৩৪ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান হলে এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বস্তি ফিরে আসে নারী পুরুষসহ শিশু কিশোরদের মাঝে। এ সমস্যার সমাধানে মিডিয়া কর্মী ও প্রশাসনের ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন উভয় গ্রামবাসী।
রেজাউল করিম রেজা/এফএ/এবিএস