মনোনয়ন পেতে আ.লীগ নেতারা মরিয়া


প্রকাশিত: ০৫:৪৩ এএম, ২২ অক্টোবর ২০১৬

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কুষ্টিযার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের  নেতারা নড়েচড়ে বসছেন। কাঙ্ক্ষিত এ পদে মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে জোর তদবির শুরু করেছেন একাধিক নেতা।

নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন থেকে সীমানা নির্ধারণের কাজও শুরু হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসন থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ দফতরে চেয়ারম্যান পদকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ নেতা। চেয়ারম্যান পদে আসীন হওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই দলটির একাধিক নেতা মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে সরকার গঠন করার বেশ কয়েক বছর পর জেলা পরিষদের দলীয় নেতাদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়। জেলা পরিষদকে কার্যকর ও জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসার অংশ হিসেবে প্রশাসক বসানো হয়।

আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচনে কুষ্টিয়ায় ক্ষমতাশীন দলের যে পাঁচজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন জাফর, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ নেতা আজগর আলী।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুষ্টিয়া জজ কোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট আসম আক্তারুজ্জামান মাসুম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বাচিপ নেতা ডা. আমিনুল হক রতন।

বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদে প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর যখন নিয়োগ পান তখন তিনি কুমারখালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে সে সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীকে প্রথম এ পদের জন্য মনোনীত করা হয়।

তার নিয়োগও এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে জেলা আওয়ামী লীগেরই কয়েকজন নেতার তীব্র বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি ছিটকে পড়েন। অনেকটায় নাটকীয়ভাবে এ পদে আসীন হন কুমারখালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন জাফর।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর জেলা পরিষদে নির্বাচন হবে এমন খবরে দলের মধ্যে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে দলের অনেক নেতাই জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন।

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির বাড়ি এ জেলায় হওয়ার কারণে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার মতামতই বেশি গুরুত্ব পাবে বলে সবাই মনে করছেন।

দলের কয়েকজন নেতা বলেন, বিগত সময় সবকিছু ঠিকঠাক হলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে নিয়োগ না পাওয়ায় নাখোশ হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা দুর্দিনের কাণ্ডারী প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘ সময় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

ছাত্র জীবনেও বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। সফলতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া আজগর আলীকে জেলা পরিষদে নিয়োগ না দেয়ায় তার অনুগতরাও ক্ষুব্ধ হন। তবে এ বছর দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। দলীয় সভানেত্রী তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন বলেও জানান।

নির্বাচনের বিষয় নিয়ে আজগর আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গতবার আমাকে নিয়োগ দেয়নি এতে আমার কষ্ট নেই। জীবনে আমার চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। পদের জন্য কখনো লালায়িত ছিলাম না। দীর্ঘ সময় দলের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছি। নেত্রী যদি মনে করে আমাকে মনোনয়ন দিবেন তাহলে নির্বাচন করবো। দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলেই বিশ্বাস করি।

Kushtia

বর্তমান প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন জাফরও আবারো এ পদে আসীন হওয়ার দৌড়ে আছেন। তিনি মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ নেতার বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগও আছে দলের পক্ষ থেকে। তবে আগামী নির্বাচনে এ পদের জন্য তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বলেই মনে করছেন বর্তমান প্রশাসক।

দলের মধ্যে একজন পরিছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে যার সর্ব মহলে পরিচিতি রয়েছে তিনি হচ্ছেন কুষ্টিয়া সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুষ্টিয়া জজ কোর্টের বিজ্ঞ জিপি অ্যাডভোকেট আসম আক্তারুজ্জামান মাসুম। জেলা পরিষদের নির্বাচনে তার নামটিও আলোচনায় আসছে। তিনি জানান, দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করবো।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বাচিপ নেতা ডা. আমিনুল হক রতনও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে তার পক্ষে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। একাধিকবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। একবার প্রার্থী হলেও জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমিনুল হক রতন বলেন, আমি মনোনয়ন পেপার সাবমিট করবো। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন না দেন তাহলে আমি নির্বাচন করবো না।

এ পদের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়া চেম্বারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে। সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে নাম প্রস্তাব করে পাঠালেও শেষ পর্যন্ত বর্তমান মেয়র আনোয়ার আলীকেই মনোনয়ন দেয়া হয়।

এতে তিনি পরিচিতজনদের কাছে হতাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ হন। এবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা করছেন। দলের কাছে তিনি মনোনয়ন চাইবেন। দলের পক্ষ থেকে তাকে যদি এ পদের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয় তবেই তিনি নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজি রবিউল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমি মনোনয়ন চাইবো না। দল যদি মনে করে এ পদের জন্য আমি যোগ্য আর সেই বিবেচনায় আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি আছি। তাছাড়া পদ পাওয়ার জন্য আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো না। আগেও আমি এ নীতিতে ছিলাম। আগামীতেও থাকবো।

আওয়ামী লীগের দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিন জনের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুষ্টিয়া জজ কোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট আসম আক্তারুজ্জামান মাসুম।

তবে নেতা-কর্মীরা বলছেন, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যার নামই কেন্দ্রে প্রস্তাব করে পাঠানো হোক না কেন চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুল উল আলম হানিফের মতামতকেই প্রাধান্য দেয়া হবে বলে নেতা-কর্মীরা মনে করছেন।

আল-মামুন সাগর/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।