তাঁত শিল্পকে অস্বীকারের সুযোগ নেই
চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উন্নত প্রযুক্তি, যোগান, অর্থনৈতিক সহায়তার অভাবে তাঁত শিল্প এগিয়ে যেতে পারছে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) জসীম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশীয় বস্ত্রের ৪১ শতাংশ তাঁত শিল্প থেকে আসে। কৃষির চেয়ে তাঁত শিল্প নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এ শিল্পকে অস্বীকারের সুযোগ নেই। মহাত্মা গান্ধীও তাঁত শিল্পে জড়িত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁত শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার চিন্তা করছেন। ইতিমধ্যে এখাতে ক্ষুদ্র ঋণের জন্য দেড়শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামীতে আরো বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার কক্সবাজার শহরের বিয়াম ফাউন্ডেশনের হল রুমে তাঁত শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তাঁত শিল্পকে অগ্রসর করার জন্য সাতটি নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে তাঁতবোর্ড সরকারের অন্যতম আয়ের খাত হিসেবে পরিচিত হবে।
এসময় তিনি রোড শো, ফ্যাশন শো, ডিজাইন শো, ওয়ার্কশপ, ভিডিও চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাঁত শিল্পের ব্রান্ডিং করার পরিকল্পনার কথা জানান।
কক্সবাজারের তাঁত শিল্পীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে রোববার। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অধীনে চকরিয়া উজেলার হারবাং-এ ২৩ অক্টোবর হাতে কলমে প্রশিক্ষণে ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ গ্রহণ করছেন।
অবহেলিত ও মৃত প্রায় তাঁত শিল্পে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এ শিল্পে জড়িতদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ভ্রাম্যমাণ এই প্রশিক্ষণ শেষে সনদও দেয়া হবে। দেয়া হবে আরো উন্নত প্রশিক্ষণসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তাঁত শিল্পের সমস্যা, সরকারে পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও তাঁত বোর্ডের ডিজিএম (অপারেশন) এএসএম গোলাম মোর্তজার পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য আবুল কাশেম মো. বোরহান উদ্দিন।
সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/আরআইপি