কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা
ঝালকাঠিতে জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্ব স্ব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নামতে দলের সিনিয়র নেতার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন প্রশাসক পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কখন অনুমতি দেবেন সেই প্রহর গুণছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ থেকে ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক সরদার মো. শাহ আলম, সহসভাপতি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খান মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, ঝালকাঠি জেলা বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ সালেক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. খান সাইফুল্লাহ পনির।
জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক সরদার মো. শাহ আলম জানান, সমাজের সেবা করতে গিয়ে ব্যবসার দিকে তেমন অগ্রগতি করতে পারিনি। এজন্য অন্যান্যদের চেয়ে ব্যবসায়ীক হিসেবে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় পিছনে পড়ে গেছি। তারপরও ঝালকাঠির অভিভাবক শিল্পমন্ত্রী আলহাজ আমির হোসেন আমু যদি নির্দেশ দেন তাহলে তা উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় (বিএম) কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নির্বাচনের জন্য এখনও কোনো চিন্তাভাবনা করি নাই। দলীয় সিদ্ধান্ত যে দিকে হবে সেদিকেই কাজ করে যাবার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক আলী বলেন, জেলাবাসী উন্নয়নের জন্য আমাকে নিয়ে চিন্তা করলেও আমি এখনও নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ভাবছি না।
ঝালকাঠি জেলা বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ সালেক জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য ৯০ শতাংশ চিন্তাভাবনা আমার নেই। তারপরেও যদি নেতা আমু ভাই এবং দলীয় সিদ্ধান্ত পাই তাহলে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা আছে।
এদিকে বিএনপির সমর্থিত বা মনোনীত প্রার্থীর বিষয়টি নির্ধারণ করা না হলেও নির্বাচনের জন্য জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টুর কথাই ভাবছেন নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর বলেন, বর্তমান সরকারের পাতানো নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিয়ে আর কী হবে। তারপরেও যদি কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রার্থী বাছাই করার কথা বলে তাহলে প্রাথমিকভাবে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টুর কথা আলোচনায় রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও আমাদের অভিভাবক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম এর প্রার্থীতা যাচাই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আনোয়ার হোসেন জানান, আমাদের এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। কেন্দ্রে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেক জেলায় প্রার্থী দেয়া হবে এবং অনেক জেলায় কোনো প্রার্থী দেয়া হবে না। আমরা হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আশা করি আগামী সপ্তাহের মধ্যে কোনো একটা নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
এফএ/এবিএস